চলতি বছরের ১৯ মে গুগলের বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলন গুগল আই/ও ২০২৬-এ জেমিনাই স্পার্ক উন্মোচন করা হয়। গুগলের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি ব্যক্তিগত এআই এজেন্ট, যা ব্যবহারকারীর নির্দেশনায় ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করতে পারে। এমনকি কম্পিউটার বন্ধ বা ফোন লক থাকা অবস্থায়ও নির্ধারিত কিছু কাজ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে এর।
গুগল ওয়ার্কস্পেসের বিভিন্ন অ্যাপের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুবিধা রয়েছে জেমিনাই স্পার্কে। এর মাধ্যমে জিমেইল, গুগল ডকস, শিটস, স্লাইডস ও ক্যালেন্ডারের তথ্য ব্যবহার করে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব।
উদাহরণ হিসেবে, ইমেইলে ছড়িয়ে থাকা প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে গুগল শিটসে সাজানো, নির্দিষ্ট গ্রাহকের জন্য ফাইল ও ফোল্ডার তৈরি করা কিংবা কোনো বিষয়ের তথ্য অনুসন্ধান ও সেগুলো গুছিয়ে উপস্থাপনের মতো কাজ করতে পারে এটি। ফলে ব্যবহারকারীকে প্রতিটি কাজ আলাদাভাবে করার পরিবর্তে একটি নির্দেশনার মাধ্যমে একাধিক ধাপের কাজ পরিচালনার সুযোগ দেয় এআই এজেন্টটি।
জেমিনাই অ্যাপের মেনু থেকে ‘স্পার্ক’ অপশন নির্বাচন করে নির্দিষ্ট কাজের নির্দেশনা দিতে হয়। এরপর নির্দেশনা অনুযায়ী এআই এজেন্ট কাজ শুরু করে। ‘টাস্ক’ বিভাগে গিয়ে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা যায়। প্রয়োজন হলে চলমান কাজের মধ্যে নতুন নির্দেশনাও যোগ করা সম্ভব।
জেমিনাই স্পার্কের সুবিধা ধাপে ধাপে বিভিন্ন দেশ ও ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছে দিচ্ছে গুগল। ২০২৬ সালের জুনে ম্যাকওএস অ্যাপে এর সুবিধা যুক্ত করা হয়। এ ছাড়া গুগলের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে আরও বেশি দেশের গুগল এআই প্রো গ্রাহকদের জন্য এটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে দেশ, সাবস্ক্রিপশন ও অ্যাপভেদে সুবিধার প্রাপ্যতা ভিন্ন হতে পারে।
জেমিনাইয়ে ‘স্কিলস’ নামের একটি সুবিধাও যুক্ত করেছে গুগল। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ধরনের কাজের জন্য আগে থেকে নির্দেশনা সংরক্ষণ করে রাখা যায়। পরে ফরোয়ার্ড স্ল্যাশ (/) লিখে সংশ্লিষ্ট স্কিলের নাম নির্বাচন করে সেই নির্দেশনা আবার ব্যবহার করা সম্ভব।
যেমন, নির্দিষ্ট লেখার ধরন অনুসরণ করে প্রতিবেদন তৈরি, উপস্থাপনার খসড়া প্রস্তুত কিংবা কোনো বিষয় নিয়ে একাধিক দৃষ্টিভঙ্গি সাজানোর জন্য আলাদা স্কিল তৈরি করা যেতে পারে। এতে একই ধরনের কাজ বারবার করার সময় নতুন করে বিস্তারিত নির্দেশনা লেখার প্রয়োজন কমে যায়।
এআই এজেন্টকে ইমেইল, নথি ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় অনুমতি ও গোপনীয়তার বিষয়গুলো বুঝে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে পাসওয়ার্ড, ব্যাংক বা পেমেন্ট-সংক্রান্ত তথ্যের মতো সংবেদনশীল তথ্য অপ্রয়োজনে এআই চ্যাটে দেওয়া উচিত নয়।
এআই এজেন্টের তৈরি করা নথি, সংগৃহীত তথ্য কিংবা সম্পন্ন করা কাজও যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করলেও এআইয়ের ফলাফলে ভুল থাকতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ সম্পন্ন করার আগে তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করাই নিরাপদ পদ্ধতি।
সব মিলিয়ে, জেমিনাই স্পার্কের মাধ্যমে প্রচলিত প্রশ্নোত্তরভিত্তিক এআই ব্যবহারের বাইরে গিয়ে ডিজিটাল কাজের বড় অংশ স্বয়ংক্রিয় করার দিকে এগোচ্ছে গুগল। ব্যক্তিগত কাজ থেকে শুরু করে অফিসের নিয়মিত কার্যক্রম। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সময় ও শ্রম কমানোর সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে এই প্রযুক্তি।