শনিবার ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিমন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে কয়েকজনকে ধাওয়া করছেন। এ সময় তাঁকে চিৎকার করে লোকজনকে ধরার নির্দেশ দিতে শোনা যায়। ভিডিওতে তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করার চেষ্টা করতেও দেখা যায়।
ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে অন্য একজনকে উদ্দেশ করে হুমকিমূলক কথা বলতে শোনা যায়। এ ছাড়া অভিযানের সময় প্রতিমন্ত্রীর এক দেহরক্ষীকে একজনকে লাথি মারতে দেখা গেছে বলে ভিডিওর বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ছয়জনকে আটক করার পর থানায় ফোন করেন। পরে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের থানায় নিয়ে আসেন।
ওসি জানান, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কি না, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অর্থাৎ, পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগে উদ্ধার করা পদার্থকে নিশ্চিতভাবে হেরোইন হিসেবে উল্লেখ করার সুযোগ নেই। একইভাবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া ও তদন্তের ফলের অপেক্ষা করতে হবে।
অভিযানের ভিডিও প্রকাশের পর প্রতিমন্ত্রীর হাতে থাকা বস্তুটি আগ্নেয়াস্ত্র কি না, সেটির লাইসেন্স রয়েছে কি না এবং অভিযানের সময় তা প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা ছিল কি না; এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) আরিফুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘পিস্তল নয়, তিনি লাঠি নিয়ে অভিযানে গেছেন।’ তবে ভিডিওতে দৃশ্যমান বস্তুটির প্রকৃতি ও লাইসেন্সের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা, ২০২৫’-এ ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারসংক্রান্ত বিধান রয়েছে। এ ঘটনায় কোনো বিধি লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য অস্ত্রটির প্রকৃতি, লাইসেন্সের শর্ত এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট যাচাই করা জরুরি।
নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে ইশরাক হোসেন ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, মাদক কারবারিরা যে রাজনৈতিক দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি তাঁর নিজের দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এলাকাবাসীর উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকায় মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কোনো স্থান নেই। মাদকবিরোধী কার্যক্রম সফল করতে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা কামনা করেন।
অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তার জবাব পাওয়া যায়নি।
অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা, উদ্ধার করা পদার্থের পরীক্ষার ফল এবং ভিডিওতে দেখা বস্তুটির প্রকৃতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।