চ্যাম্পিয়নস লিগের ২০২৬-২৭ মৌসুমের লিগ পর্বে আজ আবার মুখোমুখি হচ্ছে প্যারিস সেন্ট-জার্মেই ও বার্সেলোনা। প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেসে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচটির আগে নিজেদের ওয়েবসাইটে দুই দলের অতীত লড়াইয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছে বার্সেলোনা। সেখানে বিশেষভাবে জায়গা পেয়েছে ২০১৭ সালের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন, যা ফুটবলবিশ্বে ‘রেমোন্তাদা’ নামে পরিচিত।
২০১৬-১৭ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে পিএসজির মাঠে ৪-০ গোলে হেরেছিল বার্সেলোনা। ফলে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় এড়াতে ফিরতি লেগে তাদের সামনে ছিল কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। এর আগে চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে প্রথম লেগে চার গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে কোনো দল পরের রাউন্ডে উঠতে পারেনি।
কিন্তু ন্যু ক্যাম্পে ফিরতি লেগে সব হিসাব বদলে দেয় বার্সেলোনা। ম্যাচের শেষ দিকে গিয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবধান তৈরি করতে পারেনি দলটি। এরপর নেইমারের জোড়া গোল এবং যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে সের্হি রবার্তোর জয়সূচক গোলে ৬-১ ব্যবধানে ম্যাচ জেতে কাতালানরা। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ গোলের অগ্রগতিতে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় তারা।
সেই জয় শুধু পরের রাউন্ডে ওঠার গল্প ছিল না; ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত প্রত্যাবর্তন হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে আছে ম্যাচটি। প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানোর সেই নজির আজও বার্সেলোনার সমর্থকদের কাছে বিশেষ আবেগের।
২০১৭ সালের সেই স্মরণীয় জয়ের পর দুই দলের দ্বৈরথে অবশ্য পাল্টেছে পরিস্থিতি। পরবর্তী সময়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইগুলোতে একাধিকবার বার্সেলোনাকে হারিয়েছে পিএসজি।
২০২০-২১ মৌসুমের শেষ ষোলোয় প্রথম লেগে বার্সেলোনার মাঠে ৪-১ গোলে জয় পায় পিএসজি। ফিরতি লেগে দুই দল ১-১ গোলে ড্র করলে মোট ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে ফরাসি ক্লাবটি।
২০২৩-২৪ মৌসুমের কোয়ার্টার ফাইনালেও একই চিত্র দেখা যায়। প্যারিসে প্রথম লেগে ৩-২ গোলে জিতে এগিয়ে গিয়েছিল বার্সেলোনা। কিন্তু নিজেদের মাঠে ফিরতি লেগে ৪-১ গোলে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ে তারা। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় পিএসজি।
এরপর গত মৌসুমের লিগ পর্বেও বার্সেলোনার অস্থায়ী হোম ভেন্যু লুইস কোম্পানিস অলিম্পিক স্টেডিয়ামে ২-১ গোলে জয় পায় প্যারিসের দলটি। ফলে অতীতের ঐতিহাসিক সাফল্য থাকলেও সাম্প্রতিক মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যান পিএসজির পক্ষেই কথা বলছে।

এবারের ম্যাচের গুরুত্ব শুধু দুই দলের পুরোনো হিসাব কিংবা মর্যাদার লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নয়। চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগও থাকছে দুই দলের সামনে।
প্রথম দুই ম্যাচ শেষে পিএসজি ও বার্সেলোনা—দুই দলেরই সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট। গোল ব্যবধানও সমান, প্লাস ৭। তবে বেশি গোল করার সুবাদে তালিকার শীর্ষে রয়েছে পিএসজি।
প্রথম ম্যাচে স্লোভান ব্রাতিস্লাভাকে ৬-১ গোলে হারায় প্যারিসের ক্লাবটি। পরের ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয় পায় তারা। অন্যদিকে বার্সেলোনা প্রথম ম্যাচে ফেইনুর্ডকে ৫-১ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে গালাতাসারাইকে ৪-১ গোলে পরাজিত করে।
দুই দলই দারুণ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে আসায় এবারের লড়াইয়েও গোলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। পয়েন্ট তালিকায় এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিজেদের শক্তিমত্তা প্রমাণের সুযোগও এটি।
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটির আগে খেলোয়াড়দের চোট নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে দুই দলেই। রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ম্যাচে চোট পেয়েছেন বার্সেলোনার জুলস কুন্দে ও এরিক গার্সিয়া। আগে থেকেই চোটের কারণে মাঠের বাইরে রয়েছেন আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন ও রুনি বারদজি।
অন্যদিকে পিএসজিও পাচ্ছে না নুনো মেন্দেস ও তরুণ গোলরক্ষক আলেসান্দ্রো লঙ্গোনিকে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি দুই দলের কৌশল ও একাদশ নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
২০১৭ সালের সেই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন বার্সেলোনাকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে। তবে সাম্প্রতিক মুখোমুখি লড়াইয়ের ফলাফলও তাদের সতর্ক থাকার বার্তা দিচ্ছে। অন্যদিকে নিজেদের মাঠে খেলা এবং সাম্প্রতিক সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্য থাকবে পিএসজির।