বিশ্বব্যাপী পিসি সরবরাহ কমলেও বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। ওমডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬৮ লাখ ম্যাক কম্পিউটার সরবরাহ করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ কম। তবে সামগ্রিক বাজারে সরবরাহ আরও বেশি কমে যাওয়ায় অ্যাপলের বাজার অংশীদারত্ব বেড়ে ১১ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে। ফলে বৈশ্বিক পিসি বাজারে চতুর্থ অবস্থান ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ওমডিয়ার তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে লেনোভো। তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির পিসি সরবরাহ ছিল প্রায় ১ কোটি ৪৯ লাখ ইউনিট, যা বাজারের প্রায় ২৬ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এইচপির সরবরাহ ৩১ শতাংশ কমে প্রায় ১ কোটি ৩ লাখ ইউনিটে নেমেছে। প্রতিষ্ঠানটির বাজার অংশীদারত্ব কমে প্রায় ১৮ শতাংশ হয়েছে।
তৃতীয় অবস্থানে থাকা ডেল প্রায় ৭৬ লাখ ইউনিট কম্পিউটার সরবরাহ করেছে। বৈশ্বিক বাজারে প্রতিষ্ঠানটির অংশীদারত্ব প্রায় ১৩ শতাংশ। অন্যদিকে, আসুস প্রায় ৫৪ লাখ ইউনিট কম্পিউটার সরবরাহ করে শীর্ষ পাঁচে জায়গা ধরে রেখেছে। শীর্ষ নির্মাতাদের মধ্যে আসুসের সরবরাহ কমার হার ছিল তুলনামূলকভাবে কম।
যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়
ওমডিয়ার বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় অনেক ক্রেতা ও প্রতিষ্ঠান আগেভাগেই কম্পিউটার কিনেছিল। এতে বছরের প্রথম ছয় মাসে চাহিদা ও সরবরাহ তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ছিল। পরবর্তী সময়ে সেই আগাম কেনাকাটার প্রভাব কমে আসায় বাজারে সরবরাহের পরিমাণও হ্রাস পেয়েছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মেমোরি ও স্টোরেজ যন্ত্রাংশের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। ওমডিয়ার প্রধান বিশ্লেষক বেন ইয়ের তথ্য অনুযায়ী, একটি পিসির মোট উৎপাদন ব্যয়ে ডিআরএএম মেমোরি ও সলিড-স্টেট ড্রাইভের (এসএসডি) সম্মিলিত অংশ আগে সাধারণত প্রায় ১৫ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। এসব যন্ত্রাংশের দামও আগের তুলনায় চার গুণের বেশি বেড়েছে।
উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কম্পিউটার নির্মাতারা কয়েক দফায় পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন। কিন্তু মূল্যবৃদ্ধির পরও বাড়তি ব্যয়ের পুরোটা সমন্বয় করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, বেশি দামের কারণে ক্রেতাদের কেনাকাটার আগ্রহ কমেছে। ফলে বাজারে বিক্রি কমার পাশাপাশি অবিক্রীত পণ্যের মজুত নিয়ন্ত্রণেও চাপ তৈরি হয়েছে।
প্রসেসর, গ্রাফিকস কার্ড ও অন্যান্য সমন্বিত সার্কিটের ঘাটতিও সরবরাহব্যবস্থাকে জটিল করে তুলেছে। এ পরিস্থিতিতে কয়েকটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমানোর পাশাপাশি মজুত ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনছে।
২০২৭ সালেও সংকোচনের পূর্বাভাস
পিসি বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছে ওমডিয়া। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর–ডিসেম্বর) বিশ্ববাজারে পিসি সরবরাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ শতাংশ কমতে পারে। ২০২৭ সালজুড়েও বাজার আরও ৭ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ওমডিয়ার গবেষণা পরিচালক ইশান দত্তের মতে, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে পিসি সরবরাহ কমে যাওয়ার বিষয়ে বড় নির্মাতারা আগেই সতর্ক করেছিল। এখন যন্ত্রাংশের বাড়তি ব্যয় খুচরা বাজারেও প্রভাব ফেলছে। এর ফলে ক্রেতারা কেনাকাটা কমাচ্ছেন এবং নির্মাতারা উৎপাদন ও মজুত নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
সব মিলিয়ে, মেমোরি ও স্টোরেজের মূল্যবৃদ্ধি, যন্ত্রাংশের সংকট এবং ক্রেতাদের দুর্বল চাহিদা বিশ্ব পিসি বাজারকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ওমডিয়ার পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে বছরের শেষ প্রান্তিক ও ২০২৭ সালেও কম্পিউটার নির্মাতাদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন থাকতে পারে।