বুধবার প্রকাশিত চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে অ্যালফাবেট জানায়, সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত তিন মাসে তাদের আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেড়ে ১২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে বিজ্ঞাপন ব্যবসায় প্রত্যাশিত আয় না আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারবাজারের পারফরম্যান্সে।
অ্যালফাবেটের প্রধান ব্যবসায়িক কর্মকর্তা ফিলিপ শিন্ডলারের বক্তব্য অনুযায়ী, গুগলের এআই মোড প্রচলিত সার্চের বিজ্ঞাপন ব্যবসায় পরিবর্তন আনছে। এআই-ভিত্তিক এই ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীরা কথোপকথনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর পেতে পারেন। ফলে প্রচলিত সার্চ ফলাফলের পাশে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপনের ভূমিকা ও আয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
বাজারের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার অ্যালফাবেটের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৯৭ ট্রিলিয়ন ডলার। বৃহস্পতিবার শেয়ারমূল্য কমে যাওয়ার পর তা নেমে আসে প্রায় ৩ দশমিক ৪৬ ট্রিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ এক দিনেই বাজারমূল্য কমেছে প্রায় ৫১০ বিলিয়ন ডলার।
প্রযুক্তি খাতে এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও এ প্রযুক্তি থেকে কতটা টেকসই আয় করা সম্ভব, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশেষ করে গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের পাশাপাশি মূল বিজ্ঞাপন ব্যবসার আয় ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
এদিকে এআই অবকাঠামো ও প্রযুক্তি উন্নয়নে ব্যয় বাড়াচ্ছে অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটও। বৃহস্পতিবার অ্যামাজনের শেয়ারমূল্য প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে মাইক্রোসফটের শেয়ারমূল্য কমেছে ১ শতাংশেরও কম।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে কত দ্রুত এবং কতটা আয় বাড়বে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে এআই-ভিত্তিক সার্চ জনপ্রিয় হয়ে উঠলে প্রচলিত বিজ্ঞাপননির্ভর ব্যবসার মডেলেও পরিবর্তন আসতে পারে।
সব মিলিয়ে, অ্যালফাবেটের শেয়ারমূল্যের বড় পতন প্রযুক্তি খাতে এআই নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ও উদ্বেগ – দুই দিকই সামনে এনেছে। এখন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো, নতুন প্রযুক্তির উন্নয়ন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বিদ্যমান ব্যবসার আয় ও মুনাফার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা।