শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমএসনাউ জানায়, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে তারা এ তথ্য পেয়েছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য সামরিক অভিযান স্বল্পমেয়াদি হলেও তা হতে পারে অত্যন্ত তীব্র। যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরদিন থেকেই এ অভিযান শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় উপসাগরীয় দেশগুলো নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার বিরোধিতা করছে। তারা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে এবং উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উপসাগরীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে নিজেদের ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে কিছু দেশ আপত্তি জানাতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে তাতে বিস্মিত হওয়ার কিছু থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হবে না। গত ৮ অক্টোবর দেওয়া এক বক্তব্যেও তিনি নির্বাচনের আগে হামলা না চালানোর কথা জানিয়েছিলেন। ফলে নির্বাচনের পর সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্ভাব্য সামরিক অভিযান সম্পর্কে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এমএসনাউকে বলেন, ‘সংবেদনশীল সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবে থাকতেও পারে, আবার নাও থাকতে পারে; এ বিষয়ে আমরা প্রকাশ্যে মন্তব্য করি না।’ তবে ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব ধরনের বিকল্প খোলা রেখেছেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন উপসাগরীয় দেশগুলো কূটনৈতিকভাবে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে।
তবে ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। ফলে ৪ নভেম্বর সম্ভাব্য সামরিক অভিযান শুরুর যে তথ্য সামনে এসেছে, সেটিকে আপাতত সংবাদমাধ্যমের বরাতে পাওয়া সম্ভাব্য পরিকল্পনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সূত্র: এমএসনাউ, দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।