এর আগে বৃহস্পতিবার রাতেও একই দাবিতে ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেন-কটের বাড়ির সামনে জড়ো হন বহু মানুষ। তাঁদের হাতে ছিল বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আরব নাগরিকদেরও সমান অধিকার ও রাজনৈতিক অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
শনিবারের কর্মসূচির আয়োজন করেছে ‘স্ট্যান্ডিং টুগেদার’ নামের একটি সংগঠন। সংগঠনটির বক্তব্য, আরব নাগরিকদের ভোটের মূল্য ইহুদি নাগরিকদের ভোটের সমান। তাই নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আরব দলগুলোকে বাদ না দিয়ে তাদেরও অংশীদার করতে হবে।
আয়োজকদের ঘোষণা অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ার, জেরুজালেমের প্যারিস স্কয়ার ছাড়াও বীরশেবা, হাইফা ও তাইবেতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ইহুদি বিরোধী দলগুলোর জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রাআম পেয়েছে যথাক্রমে ১১ ও ৮টি আসন। ফলে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭টি। তবে এই ৬৭ আসন কোনো একক জোটের নয়; এর মধ্যে আরব দলগুলোর ১৯টি আসনও রয়েছে।
ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। ফলে এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষেরই নেই। এ অবস্থায় সরকার গঠনের আলোচনায় আরব দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, নির্বাচনে পরিবর্তনের পক্ষে পাওয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসমর্থনকে নতুন সরকারেও প্রতিফলিত করতে হবে।
‘চেঞ্জ ব্লক’ নামে পরিচিত ইহুদি বিরোধী জোটে রয়েছে গাদি আইজেনকটের ইয়াশার, নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের বি’ইয়াচাদ, ইয়ার গোলানের দ্য ডেমোক্র্যাটস এবং আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু। অন্যদিকে আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রাআমের আসনসংখ্যা এবার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়ে বিরোধী নেতাদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে দ্য ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান জানান, বৃহস্পতিবার তিনি ইয়াশার নেতা গাদি আইজেনকট, বি’ইয়াচাদ নেতা ইয়ার লাপিদ এবং রাআমের প্রধান মানসুর আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাঁদের মধ্যে সরকার গঠনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ও দৃঢ় প্রত্যয় দেখেছেন বলেও জানান তিনি।
তবে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টিকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন গোলান। তাঁর মতে, এ ধরনের সরকার গঠন হলে তা হবে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন আরেকটি সরকার, যা ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
অন্যদিকে বিরোধী জোটের অংশীদার ইসরায়েল বেইতেনুর নেতা আভিগদর লিবারম্যান এখনো আরব দলগুলোর সঙ্গে কোনো জোটে যাওয়ার বিরোধিতা করছেন। ফলে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সরকার গঠনের প্রশ্নে ঐকমত্য তৈরি হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সরকার গঠনের আলোচনার পাশাপাশি পার্লামেন্টের নেতৃত্ব নিয়েও প্রস্তুতি নিচ্ছে ‘চেঞ্জ ব্লক’। আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ওই দিন নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের পাশাপাশি বর্তমান স্পিকার আমির ওহানাকে সরিয়ে নতুন স্পিকার নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বিরোধী জোটের।
আমির ওহানা নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং লিকুদ পার্টির নেতা। দ্য ডেমোক্র্যাটসের নেতা ইয়ার গোলান জানিয়েছেন, নতুন পার্লামেন্টের সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর তাঁদের প্রথম কাজ হবে নতুন স্পিকার নিয়োগ দেওয়া। এরপর পার্লামেন্টের বিভিন্ন কমিটির প্রধানদেরও দায়িত্ব দেওয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক বারাক সেরির মতে, আমির ওহানাকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ইতিমধ্যে সমঝোতা হয়েছে। তবে নতুন স্পিকার হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
আগামী ৪ নভেম্বর নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করার কথা রয়েছে। এরপর সরকার গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া আরও এগোবে। তবে কোনো পক্ষই প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে না পারায় জোট গঠন নিয়ে আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
/TheTimesofIsrael