নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, ১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। কিন্তু নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির পেয়েছে ৪৮টি আসন। অন্যদিকে আরব নেতৃত্বাধীন দুটি দল; জয়েন্ট লিস্ট ও রা’ম যৌথভাবে পেয়েছে ১৯টি আসন। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে দল দুটির অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনে আরব দলগুলোর উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পরও তাদের সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন নেতানিয়াহু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনকে ‘নিষিদ্ধ’ বলে উল্লেখ করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
নেতানিয়াহুর এই অবস্থানের ফলে সরকার গঠনের আলোচনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। কারণ, তাঁর নেতৃত্বাধীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে আট আসন পিছিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরও এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পায়নি।
এদিকে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে। নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন।
চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৭টি আসন পেয়ে নেসেটের একক বৃহত্তম দল হয়েছে। অন্যদিকে গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি পেয়েছে ২১টি আসন। নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন বিয়াখাদ পার্টি পেয়েছে ১২টি আসন।
আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে ১১টি এবং রা’ম পেয়েছে আটটি আসন। দল দুটি মিলিয়ে ১৯টি আসন পাওয়ায় সরকার গঠনের সম্ভাব্য সমীকরণে তাদের গুরুত্ব বেড়েছে।
তবে আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা বেশি হলেও তাদের সঙ্গে জোট গঠনে বিরোধী শিবিরের মধ্যেও রাজনৈতিক আপত্তি রয়েছে। ফলে শুধু আসনসংখ্যার ভিত্তিতে নতুন সরকার গঠনের পথ সহজ হচ্ছে না।
নির্বাচনের ফলাফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় এখন সরকার গঠনের জন্য রাজনৈতিক সমঝোতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সম্ভাব্য জোট গঠন, দলগুলোর পারস্পরিক অবস্থান এবং আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে আগামী দিনগুলোতে আলোচনা জোরালো হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর আসনসংখ্যা বিরোধী শিবিরের সরকার গঠনের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। তবে মতাদর্শগত বিরোধ ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তাদের সমর্থন নিশ্চিত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের এবারের নির্বাচনে লিকুদ পার্টি একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। আরব দলগুলোর রেকর্ড সাফল্য নতুন সরকার গঠনের হিসাবকে আরও জটিল করেছে। শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষ সরকার গঠন করবে, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক সমঝোতা ও জোট আলোচনার ওপর।