বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রথম আলোকে এসব তথ্য জানান ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, হকারদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা করা হবে। সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে সেখানে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ থাকবে। তবে কোনো অবস্থাতেই সড়ক দখল করে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না।
ডিএনসিসির প্রশাসক জানান, সম্ভাব্য কয়েকটি জায়গা নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সিটি করপোরেশনের নিজস্ব জমি খুঁজে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত জায়গা নির্ধারণ করা হবে।
তিনি বলেন, হকারদের জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণে আগামী সপ্তাহের যেকোনো দিন সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। জায়গাটি উপযুক্ত হলে সেখানে অস্থায়ীভাবে হলিডে মার্কেট চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। সেখানে ৩০০ থেকে ৫০০ জন হকারকে জায়গা দেওয়া সম্ভব কি না, তা যাচাই করা হবে।
শাহ আলী কাঁচাবাজার এলাকায় জায়গা বিবেচনায়
মিরপুরের হকারদের পুনর্বাসনের জন্য শাহ আলী কাঁচাবাজারের আড়ত কমপ্লেক্সের একটি জায়গা বিবেচনায় রয়েছে। ডিএনসিসির প্রশাসক জানান, গত বুধবার উচ্ছেদ অভিযানের সময় আড়ত ব্যবসায়ীদের একজন ওই জায়গাটি ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। তবে এ বিষয়ে আড়ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এখনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি।
জায়গাটি পরিদর্শনের পর আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানান তিনি।
এর আগে মিরপুর-১০ এলাকার হকারদের গাবতলীর দিকে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত একটি জায়গায় গিয়ে ব্যবসা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে অনেক হকার সেখানে যাননি। তাঁদের আবারও প্রস্তাব দেওয়া হবে। এ জন্য মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার চালানোর পাশাপাশি হকারদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে ডিএনসিসির।
অন্যদিকে, উত্তরার রাজলক্ষ্মী এলাকার হকারদের জন্য তুলনামূলক সুবিধাজনক ও মাঝামাঝি কোনো জায়গা খোঁজা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দিয়াবাড়ির একটি জায়গাও পরিদর্শন করা হতে পারে। সেখানে পুনর্বাসনের সুযোগ না থাকলে বিকল্প স্থান খোঁজা হবে।
নিয়মিত ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা
হকারদের শুধু সপ্তাহে দুই দিন হলিডে মার্কেটে বসার সুযোগ দিলে তাঁদের জীবিকা নির্বাহ কঠিন হতে পারে বলে মনে করছে ডিএনসিসি। এ কারণে নির্ধারিত জায়গায় নিয়মিত ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, নির্ধারিত স্থানে বিকেল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তবে জায়গাটি অবশ্যই নির্দিষ্ট কোনো খালি স্থান হতে হবে, সড়ক নয়। প্রয়োজনে ওই স্থানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
চাঁদাবাজি বন্ধে থাকবে সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধান
হকারদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি তাঁদের কাছ থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় বন্ধেও নজর দিতে চায় ডিএনসিসি। এ জন্য পুনর্বাসিত হকারদের সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশাসক জানান, হকারদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি নেওয়া হতে পারে। এর বিনিময়ে তাঁদের ব্যবসাস্থলের বর্জ্য পরিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করবে সিটি করপোরেশন। এতে একদিকে হকারদের ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে নির্ধারিত স্থানের ব্যবস্থাপনাও সুশৃঙ্খল রাখা সম্ভব হবে।
উচ্ছেদ অভিযানের পর দখলমুক্ত মিরপুর-১০
গত ৩০ সেপ্টেম্বর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেট ও মিরপুর-১৩ নম্বরের দিকে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালায় ডিএনসিসি। অভিযানে গোলচত্বর থেকে বিআরটিএ কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার ফুটপাতসহ আশপাশের সড়ক থেকে অস্থায়ী দোকানপাট সরিয়ে দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও সড়কের বড় অংশজুড়ে থাকা পোশাক, জুতা, প্রসাধনী ও খাবারের দোকান সরিয়ে দেওয়ায় পথচারীদের চলাচলে স্বস্তি ফিরে আসে। তবে অভিযান চলাকালে হকার ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পাশাপাশি গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
উচ্ছেদের পর মিরপুর-১০ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় ডিএনসিসি। প্রশাসক রাতের বেলায় এলাকা পরিদর্শন করে গাছ লাগানো, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, নালা-নর্দমার উন্নয়ন এবং ময়লা ফেলার পাত্র স্থাপনের নির্দেশ দেন। এ ছাড়া অবৈধ দোকানের বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং মেট্রোরেলের পিলার ও আশপাশের দেয়াল থেকে অবৈধ পোস্টার সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
গত বুধবার মিরপুর-১ নম্বরের শাহ আলী কাঁচাবাজার এলাকায় সকাল ও সন্ধ্যায় দুই দফায় উচ্ছেদ অভিযান চালায় ডিএনসিসি। এ সময় অস্থায়ী দোকানপাট ও কাঠামো ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি সড়ক ও ফুটপাতে রাখা মালপত্র জব্দ করা হয়।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল মিরপুরের ২০২ জন হকারকে ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেয় ডিএনসিসি। তাঁদের মধ্যে ১০২ জনকে মিরপুর-১৩ নম্বর সেকশনের ওয়াসা রোডে এবং ১০০ জনকে গাবতলী কাঁচাবাজারসংলগ্ন খালি জায়গায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে তখন হকাররা ওই জায়গাগুলোতে গিয়ে ব্যবসা করতে অস্বীকৃতি জানান।
এ পরিস্থিতিতে নতুন করে বিকল্প স্থান খোঁজার উদ্যোগ নিয়েছে ডিএনসিসি। এখন উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণ, হকারদের সঙ্গে আলোচনা এবং পুনর্বাসনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ।