জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ত্রিশাল সরকারি নজরুল একাডেমির শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ২৫ ও ২৬ ডিসেম্বর একাডেমি মাঠে দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ শতবর্ষ উদযাপন করা হবে। এ আয়োজনকে ঘিরে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারী এবং প্রতিষ্ঠানের শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠানকে সফল করতে নিবন্ধন কার্যক্রমও শুরু করেছে আয়োজক কমিটি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে ত্রিশাল সরকারি নজরুল একাডেমি রোডে অবস্থিত শতবর্ষ উদযাপন কমিটির কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শতবর্ষ উদযাপনের পরিকল্পনা, আয়োজনের প্রস্তুতি, নিবন্ধন কার্যক্রম এবং প্রতিষ্ঠানটির শত বছরের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশাল সরকারি নজরুল একাডেমি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। শত বছরের পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে শিক্ষিত ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অবদান রেখেছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং শুভানুধ্যায়ীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, মেধা, শ্রম ও ভালোবাসায় সমৃদ্ধ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাস ও ঐতিহ্য।
তাঁরা বলেন, শতবর্ষ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বয়সের হিসাব নয়; এটি দীর্ঘদিনের অর্জন, স্মৃতি, সাফল্য, ত্যাগ ও ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বহু মানুষের শৈশব-কৈশোর, শিক্ষাজীবনের নানা অভিজ্ঞতা, বন্ধুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাই শতবর্ষ উদযাপনের এ আয়োজন প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
২৫ ও ২৬ ডিসেম্বর একাডেমি মাঠে বর্ণাঢ্য আয়োজন
শতবর্ষ উদযাপন কমিটির উদ্যোগে আগামী ২৫ ও ২৬ ডিসেম্বর ত্রিশাল সরকারি নজরুল একাডেমি মাঠে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সময়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শুভানুধ্যায়ীরা একত্রিত হবেন বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
দীর্ঘদিন পর পুরোনো সহপাঠী, প্রিয় শিক্ষক ও পরিচিতজনদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় অনুষ্ঠানটি ঘিরে আবেগঘন পরিবেশের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির শত বছরের পথচলা, শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরার মধ্য দিয়ে আগামী প্রজন্মের কাছে এর ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েও কাজ করছে উদযাপন কমিটি।
আয়োজকদের মতে, শতবর্ষ উদযাপনের মূল আকর্ষণ হবে বিভিন্ন প্রজন্মের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ। এ মিলনমেলার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়বে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠানের শতবর্ষে বিশেষ গুরুত্ব
আমন্ত্রণপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালকে জাতীয় পর্যায়ে নজরুলের জন্মজয়ন্তী উদযাপনের বছর হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতবর্ষ উদযাপনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এ প্রতিষ্ঠানের শতবর্ষ উদযাপন তাই শুধু প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী নয়; বরং প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহাসিক পরিচয়, শিক্ষা বিস্তারে অবদান এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
আয়োজকেরা মনে করছেন, এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অতীত, অর্জন ও ঐতিহ্য সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে পারবে। পাশাপাশি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ পথচলার বিভিন্ন অধ্যায়ও নতুন করে আলোচনায় আসবে।
তাঁরা আরও আশা প্রকাশ করেন, শতবর্ষ উদযাপনের মাধ্যমে ত্রিশাল সরকারি নজরুল একাডেমির ঐতিহ্য সংরক্ষণ, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার অনুপ্রেরণা তৈরি হবে।
শ্রেণিভেদে নিবন্ধন ফি নির্ধারণ
শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করেছে আয়োজক কমিটি। আমন্ত্রণপত্রে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে তিনটি শ্রেণিতে। ২০১৫ সাল পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। ২০২৬ সাল পর্যন্ত এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার টাকা। অন্যদিকে, বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন ফি ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে আগ্রহীদের আগামী ৩০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অনলাইনে নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শ্রেণির জন্য নির্ধারিত শর্ত ও নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
আয়োজকেরা জানান, সময়মতো নিবন্ধন সম্পন্ন করলে অংশগ্রহণকারীদের তালিকা প্রস্তুত, অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সুবিধা হবে। এ কারণে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মতবিনিময় ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন শতবর্ষ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব মশিউর রহমান দীপক, প্রচার উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ফজলুল করিম শাহীন, শতবর্ষ উদযাপন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ, বেলাল উদ্দিন সরকার, আব্দুল্লাহ আল শিহাব ও কামাল হোসেনসহ অন্যরা।
বক্তারা শতবর্ষ উদযাপনকে সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে অনুষ্ঠান সম্পর্কে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে তথ্য পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তাঁরা বলেন, একটি সফল শতবর্ষ উদযাপনের জন্য সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত প্রত্যেকের স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা এ আয়োজনকে আরও অর্থবহ করে তুলবে।
ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রজন্মের বন্ধন দৃঢ় করার প্রত্যাশা
ত্রিশাল সরকারি নজরুল একাডেমির শতবর্ষ উদযাপনকে ঘিরে আয়োজকদের প্রত্যাশা, দুই দিনের এ অনুষ্ঠান প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হবে। একই সঙ্গে এটি প্রতিষ্ঠানটির শত বছরের গৌরবময় ইতিহাস, শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান এবং ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরবে। শত বছরের পথচলায় যাঁরা এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের অনেকের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা এ আয়োজনের মাধ্যমে নতুন করে সামনে আসবে। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বর্তমান শিক্ষার্থীরাও প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে।
আয়োজকেরা আশা করছেন, সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণে শতবর্ষ উদযাপন একটি স্মরণীয় আয়োজনে পরিণত হবে। এর মাধ্যমে ত্রিশাল সরকারি নজরুল একাডেমির ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।