অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় রয়েছে। নতুন উদ্যোগে জামায়াতে ইসলামীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে সাত দলের সম্ভাব্য ঐক্যটি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক রাখবে, তা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে ঐক্যপ্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া সাতটি দল হলো – ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম ও দলগুলোর প্রতিনিধিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
বৈঠকে ঐক্যের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। সাত দলের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি হেফাজতের নেতারাও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছেন।
হেফাজতে ইসলামের নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কওমি ধারার ইসলামী দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বিবেচিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সম্মিলিত অবস্থান গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি দলগুলোর পৃথক প্রস্তাব সমন্বয় করে ঐক্যের একটি কাঠামো তৈরির চেষ্টা চলছে।
তবে এটি কেবল ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয়ে অভিন্ন অবস্থান তৈরির প্ল্যাটফর্ম হবে, নাকি ভবিষ্যতে নির্বাচনী ও রাজনৈতিক কার্যক্রমেও একসঙ্গে কাজ করবে; তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
নতুন ঐক্যপ্রক্রিয়ার অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো জামায়াতে ইসলামী ও দলটির নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে সম্পর্ক। সাতটি দলের কয়েকটি অন্য রাজনৈতিক জোটের সঙ্গে যুক্ত থাকায় নতুন প্ল্যাটফর্মের অবস্থান নির্ধারণ জটিল হয়ে উঠেছে।
কোনো কোনো দল অন্য রাজনৈতিক জোটের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সীমাবদ্ধতা চায়। আবার অন্যদের অবস্থান তুলনামূলকভাবে ভিন্ন। ফলে নতুন ঐক্যের সদস্য দলগুলো নিজেদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রাখবে, নাকি অভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেবে; এ প্রশ্নেরও সমাধান প্রয়োজন।
সেপ্টেম্বরের বৈঠকে সব বিষয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় ঐক্যের কাঠামো ও ভবিষ্যৎ কর্মপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিয়াজোঁ কমিটির সদস্যদের ২২ অক্টোবর ঢাকায় বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। সেখানে ঐক্যের রূপরেখা ও পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
সব মিলিয়ে, হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে সাত ইসলামী দলের ঐক্যপ্রক্রিয়া বাংলাদেশের ইসলামপন্থী রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এটি শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হবে, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে এর সম্পর্ক কী দাঁড়াবে এবং দলগুলো যৌথ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যাবে কি না; তা নির্ভর করছে চলমান আলোচনার ফলের ওপর।