শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে তেরঙ্গা যাত্রার আয়োজন করার কথা ছিল সিজেপির। কর্মসূচির আগে দিপকে যে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন, সেখানে গিয়ে তাঁকে নোটিশ দেয় পুলিশ। এ সময় পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের একটি ভিডিও সিজেপির ইনস্টাগ্রাম পেজে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। পরে ভিডিওটির বিভিন্ন অংশ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়।
ভিডিওতে দিপকেকে পুলিশের দেওয়া নোটিশ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তো বলিনি যে প্রতিবাদ করব। আমরা শুধু জাতীয় পতাকা ওড়াব। সেটাও কি করার অনুমতি নেই?’
পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথোপকথনে দিপকে আরও বলেন, তাঁদের কর্মসূচিতে কোনো লাউডস্পিকার ব্যবহারের পরিকল্পনা নেই। তাঁরা এটিকে বিক্ষোভ সমাবেশও বলছেন না। শুধু জাতীয় পতাকা ওড়িয়ে ফিরে আসবেন। এ অবস্থায় জাতীয় পতাকা ওড়ানো বেআইনি কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কনট প্লেস ও সেন্ট্রাল পার্ক এলাকায় জনসমাবেশের ওপর বিধিনিষেধ কার্যকর ছিল। এ ছাড়া প্রস্তাবিত তেরঙ্গা যাত্রার জন্য নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের (এনডিএমসি) অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে পুলিশ নোটিশে উল্লেখ করে।
নোটিশে বলা হয়, অনুমতি ছাড়া ওই কর্মসূচি আয়োজন করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। পুলিশ দিপকেকে যাত্রা না করার পরামর্শও দেয়। তবে সিজেপির পক্ষ থেকে কর্মসূচিটিকে শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর আয়োজন হিসেবে তুলে ধরা হয়।
নোটিশ দেওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর দিপকেকে আটক করা হয়। সিজেপির ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর পুলিশ তাঁকে থামায়। এ সময়ও তিনি আটকের কারণ জানতে চান এবং জাতীয় পতাকা হাতে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তাঁকে পুলিশি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
সিজেপির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটকের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। জন্তর মন্তরে প্রবেশের বিধিনিষেধ অমান্য করে সেখানে প্রবেশের অভিযোগে তাঁদের আটক করা হয়। পরে তাঁদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়।
এ ছাড়া ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আসছে সিজেপি। এ বিষয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও জানিয়ে আসছে দলটি। তবে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগটি রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত; অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; এমন দাবি করা যায় না।
দিপকের আটককে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সিজেপি কর্মসূচিটিকে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর শান্তিপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করলেও পুলিশ অনুমতি ও জনসমাবেশসংক্রান্ত বিধিনিষেধের বিষয়টি সামনে এনেছে।