আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, উদ্বোধনী আসরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাছাই করা ১৩ থেকে ২১ বছর বয়সী ১৬০ জন তরুণ ক্রিকেটার অংশ নেবেন। তাঁদের চারটি মহাদেশীয় দলে ভাগ করা হবে। প্রতিটি দলে থাকবেন ৪০ জন খেলোয়াড়; ২০ জন ছেলে ও ২০ জন মেয়ে।
আয়োজকেরা নতুন এই সংস্করণকে ক্রিকেটের ‘চতুর্থ ফরম্যাট’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। তাঁদের লক্ষ্য, প্রচলিত ক্রিকেটের বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে নতুন প্রজন্মের জন্য ভিন্নধর্মী প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি করা।
এই ফরম্যাটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো ছেলে ও মেয়েদের পারফরম্যান্সের সমান গুরুত্ব। প্রতিটি ম্যাচে এক দলের মেয়েরা প্রতিপক্ষ দলের মেয়েদের মুখোমুখি হবেন। একইভাবে ছেলেদের দলও নিজেদের মধ্যে খেলবে। দুই ম্যাচে অর্জিত রান যোগ করে তৈরি হবে একটি সম্মিলিত দলীয় স্কোর। সেই স্কোরের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে বিজয়ী।
প্রতিটি ম্যাচ এক দিনে মোট ৮০ ওভারে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ৪০ ওভার দিনের আলোয় লাল বলে এবং সাদা পোশাকে খেলা হবে। পরের ৪০ ওভার অনুষ্ঠিত হবে ফ্লাডলাইটের আলোয় সাদা বলে, যেখানে খেলোয়াড়েরা পরবেন রঙিন পোশাক। প্রথম ও দ্বিতীয় সেশনের স্কোর একসঙ্গে যুক্ত থাকবে; কোনো সেশন শেষে স্কোর নতুন করে শূন্য থেকে শুরু হবে না।
টসের ক্ষেত্রেও থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। টসের মাধ্যমে কোন দল আগে ব্যাট করবে, তার পাশাপাশি মেয়েদের নাকি ছেলেদের ম্যাচ আগে অনুষ্ঠিত হবে, সেটিও নির্ধারিত হবে।
আয়োজকদের ‘প্যারিটি রুল’ বা সমতা বিধির মূল উদ্দেশ্য হলো, ছেলে ও মেয়েদের পারফরম্যান্স যেন দলের সামগ্রিক ফলাফলে সমানভাবে প্রভাব ফেলে। অর্থাৎ, কোনো একটি দলের জয়-পরাজয় নির্ধারণে শুধু ছেলেদের কিংবা শুধু মেয়েদের পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হবে না।
১৪ নভেম্বর উদ্বোধন, ফাইনাল ২৯ তারিখ
সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৪ নভেম্বর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু হবে। প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ২৯ নভেম্বর। কোনো ম্যাচের সূচি পরিবর্তন বা অন্য প্রয়োজনে ৩০ নভেম্বর রিজার্ভ ডে হিসেবে রাখা হয়েছে।
বিশ্বের পাঁচটি মহাদেশ থেকে হাজার হাজার তরুণ ক্রিকেটার এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন বলে জানিয়েছে আয়োজকপক্ষ। প্রায় এক বছর ধরে মাঠপর্যায়ে ও অনলাইনে ট্রায়ালের মাধ্যমে খেলোয়াড় বাছাইয়ের কাজ চলে। সেখান থেকে সেরা প্রতিভাদের নির্বাচন করবে গ্লোবাল সিলেকশন কমিটি।
কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন ভারতের কোচ রাজকুমার শর্মা। অক্টোবরের শেষ দিকে প্লেয়ার্স ড্রাফটের মাধ্যমে চূড়ান্ত ১৬০ জন খেলোয়াড় নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৮০ জন ছেলে ও ৮০ জন মেয়ে থাকবেন।
পরামর্শক বোর্ডে ক্রিকেটের কিংবদন্তিরা
নতুন এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কয়েকজন পরিচিত মুখ। আয়োজকদের পরামর্শক বোর্ডে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ব্যাটসম্যান ম্যাথিউ হেইডেন এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক অধিনায়ক স্যার ক্লাইভ লয়েড।
এ ছাড়া রাজকুমার শর্মার নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে গ্লোবাল সিলেকশন কমিটি। টুর্নামেন্টের পরিচালনাসংক্রান্ত দায়িত্বে রয়েছেন মাইক ফোর্ডহ্যাম। অভিজ্ঞ ক্রিকেটার, কোচ ও ক্রীড়া ব্যবস্থাপকদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে তরুণদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চায় আয়োজকপক্ষ।
তরুণদের জন্য নতুন প্ল্যাটফর্ম গড়ার লক্ষ্য
টেস্ট টোয়েন্টির প্রতিষ্ঠাতা গৌরব বাহিরভানির মতে, নতুন এই ফরম্যাটের লক্ষ্য শুধু ক্রিকেটের ধরন বদলানো নয়; বরং তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের পারফরম্যান্স সমান গুরুত্ব পাবে।
তিনি বলেন, প্রায় এক বছর আগে এবি ডি ভিলিয়ার্স, ম্যাথিউ হেইডেন, স্যার ক্লাইভ লয়েড, মাইক ফোর্ডহ্যাম ও রোহিত মারুর সঙ্গে এই ধারণাটি বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছিলেন। তখন এটি ছিল একটি পরিকল্পনা এবং তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতি। কলম্বোর এসএসসিতে আসন্ন টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে সেই পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পেতে যাচ্ছে।
ক্রিকেটের প্রচলিত সংস্করণগুলোর বাইরে নতুন এই আয়োজন কতটা জনপ্রিয়তা পাবে, তা নির্ভর করবে মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, দর্শকদের আগ্রহ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতিযোগিতা কতটা নিয়মিত আয়োজন করা যায়, তার ওপর। তবে ছেলে ও মেয়েদের পারফরম্যান্সকে একই ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত করার ধারণাটি ইতিমধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।