বুধবার (১৪ অক্টোবর) রোমের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুই দল। রোমার হয়ে মার্তেন দে রুন ও দোনিয়েল মালেন গোল করেন। অন্যদিকে রিয়ালের হয়ে কিলিয়ান এমবাপে, কার্লোস এসপি, এনদ্রিক ও আন্তোনিও রুডিগার গোল করেন। এই জয়ে দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে লিগ পর্বে নিজেদের অবস্থান শক্ত করল রিয়াল। অন্যদিকে দুই ম্যাচ শেষে রোমার সংগ্রহ এক পয়েন্ট।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিক রোমা। ১৯ মিনিটে মার্তেন দে রুনের গোলে এগিয়ে যায় তারা। দূর থেকে নেওয়া তাঁর শট প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ালে পরাস্ত হন রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া।
তবে রোমার সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র পাঁচ মিনিট পরই সমতায় ফেরে রিয়াল মাদ্রিদ। কিলিয়ান এমবাপের দূরপাল্লার শট রোমার রক্ষণভাগে লেগে জালে ঢুকে যায়। ফলে ২৪ মিনিটে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১-১।
প্রথমার্ধের বাকি সময়ে দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরি করে। তবে আর কোনো গোল না হওয়ায় সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় তারা।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ফিরেই রিয়ালের রক্ষণে চাপ বাড়ায় রোমা। ৫০ মিনিটে দোনিয়েল মালেনের গোলে আবার এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। রিয়ালের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে জালে বল পাঠান ডাচ ফরোয়ার্ড।
এরপর ৫৬ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে রোমার ব্যবধান ৩-১ করেন মালেন। তাঁর গোলটি প্রথমে অফসাইডের সন্দেহে পর্যালোচনা করা হলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) যাচাইয়ের পর বৈধতা পায়।
৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর রিয়ালের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। ম্যাচের শেষ ভাগে দুই গোলের ব্যবধান ঘোচানোই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। এ সময় বদলি খেলোয়াড়দের মাঠে নামিয়ে আক্রমণে নতুন গতি আনার চেষ্টা করেন মরিনিয়ো।
৮২ মিনিটে কার্লোস এসপির গোলে ব্যবধান কমায় রিয়াল। আরদা গুলেরের কর্নার থেকে এনদ্রিকের হেড গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বলে জাল খুঁজে নেন এসপি। গোলটি প্রথমে অফসাইডের কারণে বাতিলের সিদ্ধান্ত এলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর তা বৈধ ঘোষণা করা হয়। স্কোরলাইন হয় ৩-২।
এরপর মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে সমতায় ফেরে রিয়াল। ৮৪ মিনিটে গুলেরের কর্নার থেকে হেডে গোল করেন ব্রাজিলিয়ান তরুণ ফরোয়ার্ড এনদ্রিক। ৩-১ গোলে এগিয়ে থাকা রোমার জন্য মুহূর্তেই পরিস্থিতি কঠিন হয়ে ওঠে।
তবে রিয়াল তখনও থামেনি। ম্যাচের ৮৯ মিনিটে গুলেরের আরেকটি কর্নার থেকে দুর্দান্ত ভলিতে বল জালে পাঠান অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার। তাঁর গোলে ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখেই মাঠ ছাড়ে সফরকারীরা।
রোমার বিপক্ষে ম্যাচটি রিয়াল কোচ হোসে মরিনিয়োর জন্যও ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে ইতালির ক্লাবটির দায়িত্বে থাকার সময় তিনি দলকে উয়েফা কনফারেন্স লিগের শিরোপা জিতিয়েছিলেন। তাঁর অধীনে ইউরোপা লিগের ফাইনালেও উঠেছিল রোমা।
ম্যাচের আগে রোমার সমর্থকেরা সাবেক কোচকে ঘিরে ব্যানার প্রদর্শন করে নিজেদের ভালোবাসা প্রকাশ করেন। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে তাঁর বর্তমান দল রিয়াল মাদ্রিদের কাছে শেষ মুহূর্তে হার মানতে হয় স্বাগতিকদের।
পুরো ম্যাচের বড় অংশে এগিয়ে থেকেও শেষ দিকে রক্ষণ সামলাতে ব্যর্থ হয় রোমা। অন্যদিকে, বদলি খেলোয়াড়দের কার্যকর ভূমিকা এবং আরদা গুলেরের নিখুঁত কর্নার কাজে লাগিয়ে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন পূর্ণ করে রিয়াল মাদ্রিদ।
এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিল স্প্যানিশ ক্লাবটি। আর শেষ সাত মিনিটে তিন গোল হজম করে রোমাকে মাঠ ছাড়তে হলো হতাশা নিয়ে।