বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মহর জানান, মোটরসাইকেলে করে আসা একটি দল কাভার্ডভ্যানটির পিছু নিয়ে নাটোরের হরিশপুর বাইপাস এলাকায় সেটির পথ আটকায়। পরে ক্রিকেটারদের লাগেজ ও বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও আরেকজন এখনো পলাতক রয়েছেন বলে জানান তিনি।
মহর বলেন, তাঁদের কয়েকজনের লাগেজে নগদ টাকা, আইফোন, ডলারসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিল। এ ছাড়া দলের সরঞ্জামের মধ্যে ম্যাসাজ বেড ও ব্লেন্ডারও ছিল। তাঁর নিজের ব্যাগে স্পিকার, এয়ারপডসসহ বিভিন্ন সামগ্রী ছিল, যেগুলোর বেশির ভাগ এখনো ফেরত পাননি।
উদ্ধার হওয়া মালামালের বিষয়ে মহর জানান, ক্রিকেটার মেহরব হোসেনের আইফোন, পাসপোর্ট ও মার্কিন ডলার উদ্ধার হয়েছে। তবে তাঁর লাগেজে থাকা তিন লাখ টাকা এখনো পাওয়া যায়নি।
দলের ম্যাসাজম্যানের ম্যাসাজ বেড উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু তাঁর দুটি রানিং শু ও ব্লেন্ডার এখনো পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া মহরের নিজের ব্যাগ এবং দলের আরেক সদস্য ওয়ালিদের লাগেজে থাকা কাপড়চোপড়সহ বিভিন্ন সামগ্রীও নিখোঁজ রয়েছে।
মহরের ভাষ্য অনুযায়ী, চুরির ঘটনায় চারজনের মালামাল খোয়া গিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে দুজনের কিছু সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। তবে সবার মালামাল এখনো ফেরত পাওয়া যায়নি।
মহর আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজনের পরনে তাঁর ব্যাগ থেকে নেওয়া প্যান্ট দেখতে পেয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, চুরি হওয়া ব্যাগের সামগ্রী ব্যবহার করেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। তবে তাঁর নিজের ব্যাগের অন্য জিনিসপত্র এখনো উদ্ধার হয়নি।
মহর জানান, ঘটনার পর প্রথমে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। পরে সেটিকে মামলা হিসেবে নেওয়া হয়। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাটি তদন্ত করছে।
পলাতক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা গেলে বাকি মালামাল উদ্ধারের বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি। তাঁর মতে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে নিখোঁজ সামগ্রীর বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
এর আগে জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ শেষে রাজশাহী বিভাগের ক্রিকেটাররা বিমানে রাজশাহী ফেরেন। অন্যদিকে, তাঁদের ৫৪টি লাগেজ ও সরঞ্জাম নিয়ে বিসিবির একটি কাভার্ডভ্যান ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। পথে লাগেজ চুরির ঘটনা ঘটে। পরে দলের মালামাল গণনা করতে গিয়ে আটটি লাগেজ নিখোঁজ থাকার বিষয়টি সামনে আসে।
এ ঘটনায় রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করেছে। বাকি সামগ্রী উদ্ধারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।