শনিবার (১৭ অক্টোবর) বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন চিফ হুইপ।
সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে মায়েদের আর্থিকভাবে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা মায়েদের নামে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর সুফল ভোগ করবেন নারীরা।
তিনি দাবি করেন, ফ্যামিলি কার্ড চালুর ফলে তালাক বন্ধ হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভালো না মন্দ কাজ? যদি ভালো হয়, আপনারা বড় করে লেখেন। ভালো কাজগুলো বারবার মনে করিয়ে দিয়েন।”
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে চিফ হুইপ ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তির সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, ওই চুক্তির পেছনে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা দিয়ে দেশে পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা সম্ভব হতো।
এ ছাড়া বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে একটি চক্র জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এ অভিযোগের পক্ষে সভায় কোনো বিস্তারিত প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট বার্তা হলো, বাংলাদেশে কোনো সংখ্যালঘু নেই। ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ নীতির ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, গত দুই বছরে দেশে কোনো প্রতিমা বা মূর্তি ভাঙার ঘটনা ঘটেনি। তাঁর এ বক্তব্যের বিষয়ে স্বতন্ত্র পরিসংখ্যান বা যাচাইযোগ্য তথ্য সভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল কি না, তা জানা যায়নি।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ, জেলা প্রশাসক তাসলিমা আক্তার, পুলিশ সুপার কুদরত খুদা এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা।
পরে বেলা ১টার দিকে চিফ হুইপ বরগুনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় অংশ নেন। সেখানে তিনি হাসপাতালের জনবলসংকট নিরসনের আশ্বাস দেন। এরপর পৌর এলাকার কড়ইতলা খাল খননকাজের উদ্বোধন করেন তিনি।
ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে চিফ হুইপের বক্তব্য সভায় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। তবে ফ্যামিলি কার্ডের কারণে তালাক বন্ধ হওয়ার দাবির পক্ষে কোনো পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।