বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা জরুরি।
তিনি অভিযোগ করেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জামায়াতে ইসলামীকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রকৃত তথ্য-প্রমাণ যাচাই না করে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনকে দায়ী করা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী একটি রাজনৈতিক সংগঠন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তার বিচার করার দায়িত্ব আইন ও আদালতের। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে গণপিটুনি দিয়ে বিচারবহির্ভূতভাবে শাস্তি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না। কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোও অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের শনাক্তকরণ এবং নিহতের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। একই সঙ্গে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রচার না করতে সংবাদমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
নিহত ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৪৩) দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের শামসুল রহমান সানার ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে শামীমের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় একদল লোক তাঁকে মারধর করেন।
প্রাথমিকভাবে মারধরের শিকার হওয়ার পর শামীম বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি আবারও দলবদ্ধ মারধরের শিকার হন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে মঙ্গলবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের অভিযোগ, শামীমকে দলবদ্ধভাবে মারধরের সঙ্গে স্থানীয় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা জড়িত ছিলেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানানো হয়েছিল। ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ।