এমনই ব্যতিক্রমী সুবিধা নিয়ে বাজারে এসেছে এইচএমডির নতুন ফিচার ফোন নোকিয়া ৩০০ চার্জ। ফোনটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ৩৭০০ এমএএইচের অপসারণযোগ্য ব্যাটারি এবং ১০ ওয়াট রিভার্স চার্জিং সুবিধা। দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ, সাধারণ ফোনকল এবং জরুরি প্রয়োজনে অন্য ডিভাইসে চার্জ দেওয়ার সুবিধাকে গুরুত্ব দিয়েই তৈরি করা হয়েছে ফোনটি।
নোকিয়া ৩০০ চার্জের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য এর বড় ব্যাটারি। এইচএমডির তথ্য অনুযায়ী, ফোনটিতে রয়েছে ৩৭০০ এমএএইচের ব্যাটারি, যা প্রতিষ্ঠানটির নকিয়া ব্র্যান্ডের ফিচার ফোনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যাটারির একটি। নির্মাতার দাবি, একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে ফোনটিতে সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৯ ঘণ্টা পর্যন্ত কথা বলা সম্ভব। অন্যদিকে, স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় ব্যাটারি সর্বোচ্চ ৪০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
তবে এই সময়সীমা নির্দিষ্ট পরীক্ষার ফলের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া। বাস্তবে নেটওয়ার্কের অবস্থা, সিম ব্যবহারের ধরন, ফোনের সেটিংস এবং অন্যান্য পরিস্থিতির কারণে ব্যাটারির স্থায়িত্ব কমবেশি হতে পারে।
ফোনটির ব্যাটারি খুলে পরিবর্তন করা যায়। ফলে দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমে গেলে সেটি পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। যারা দীর্ঘ সময় ভ্রমণে থাকেন, নিয়মিত বিদ্যুৎ বা চার্জ দেওয়ার সুবিধা পান না কিংবা জরুরি যোগাযোগের জন্য আলাদা ফোন রাখতে চান, তাদের কাছে এ সুবিধা কার্যকর হতে পারে।
নোকিয়া ৩০০ চার্জের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর রিভার্স চার্জিং সুবিধা। ফোনটিতে সর্বোচ্চ ১০ ওয়াট রিভার্স চার্জিং সাপোর্ট রয়েছে। এর মাধ্যমে সামঞ্জস্যপূর্ণ অন্য ফোন, অডিও ডিভাইস এবং কিছু ইউএসবি-চালিত যন্ত্রে চার্জ দেওয়া সম্ভব।
এই সুবিধা চালু করতে ফোনটির নির্দিষ্ট বাটন ব্যবহার করা যায়। নির্মাতার তথ্য অনুযায়ী, ডিভাইসটির সঙ্গে দেওয়া বিশেষ ৪-ইন ১ কেবলে ইউএসবি টাইপ-সি, মাইক্রো ইউএসবি ও ইউএসবি-এ সংযোগের সুবিধা রয়েছে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিভাইসে চার্জ দেওয়া যেতে পারে।
জরুরি সময়ে স্মার্টফোনের ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলে নোকিয়া ৩০০ চার্জ বিকল্প শক্তির উৎস হিসেবে কাজে আসতে পারে। তবে রিভার্স চার্জিংয়ের গতি ও কার্যকারিতা নির্ভর করবে সংযুক্ত ডিভাইস, ব্যাটারির অবস্থা এবং ব্যবহৃত সংযোগের ওপর। এ সুবিধা থাকলেও ফোনটিকে প্রচলিত পাওয়ার ব্যাংকের পূর্ণ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করার আগে ব্যবহারকারীর প্রয়োজন ও সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
নোকিয়া ৩০০ চার্জে রয়েছে ২.৪ ইঞ্চির কিউভিজিএ ডিসপ্লে। এটি মূলত কল করা, বার্তা আদান-প্রদান এবং ফিচার ফোনের সাধারণ কাজের জন্য তৈরি। স্মার্টফোনের মতো বড় টাচস্ক্রিন বা উচ্চ রেজোলিউশনের ডিসপ্লে এতে নেই।
ছবি তোলার জন্য পেছনে রয়েছে একটি কিউভিজিএ রেজোলিউশনের ক্যামেরা। সঙ্গে আছে এলইডি ফ্ল্যাশ। ফলে ফোনটির ক্যামেরা সুবিধা সীমিত হলেও সাধারণ প্রয়োজনে ছবি তোলার ব্যবস্থা থাকছে।
ফোনটিতে রয়েছে এস৩০ প্লাস অপারেটিং সিস্টেম এবং ইউনিসক এসসি৬৫৩১ই প্রসেসর। এর র্যাম ৪ এমবি এবং অভ্যন্তরীণ স্টোরেজও ৪ এমবি। মাইক্রোএসডি কার্ডের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩২ জিবি পর্যন্ত স্টোরেজ বাড়ানো যায়। এসব স্পেসিফিকেশন থেকে স্পষ্ট, এটি মূলত সাধারণ যোগাযোগের জন্য তৈরি একটি ফিচার ফোন; আধুনিক অ্যাপ, ভারী গেম বা স্মার্টফোনের উন্নত সুবিধার বিকল্প নয়।
ফোনটির ওপরের অংশে রয়েছে উচ্চক্ষমতার এলইডি টর্চ। এইচএমডির দাবি, টর্চটি নকিয়া ১০৫ (২০২৩) মডেলের টর্চের তুলনায় সর্বোচ্চ চার গুণ উজ্জ্বল। অন্ধকারে চলাফেরা, বিদ্যুৎ চলে গেলে কিংবা জরুরি প্রয়োজনে আলো হিসেবে এটি ব্যবহার করা যাবে।
নকিয়া ৩০০ চার্জের ওজন প্রায় ১৩৮ গ্রাম। ফোনটির উচ্চতা প্রায় ১৩৬.৫৫ মিলিমিটার, প্রস্থ ৫৫ মিলিমিটার এবং পুরুত্ব প্রায় ১৪.৯৪ মিলিমিটার। নকশায় রয়েছে টেক্সচারযুক্ত গ্রিপ, যা হাতে ধরে রাখার সুবিধা বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। চার্জ দেওয়ার জন্য রয়েছে ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট এবং তারযুক্ত হেডফোন ব্যবহারের জন্য ৩.৫ মিলিমিটারের অডিও জ্যাক।
ফোনটি ডুয়াল মিনি সিম সমর্থন করে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এর নেটওয়ার্ক সংযোগ জিএসএমের ৯০০ ও ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডভিত্তিক ২জি নেটওয়ার্কে সীমাবদ্ধ। এতে ৪জি বা ৫জি সংযোগ নেই। তাই কেনার আগে নিজের এলাকায় ২জি নেটওয়ার্কের প্রাপ্যতা ও প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা জরুরি।
নোকিয়া ৩০০ চার্জ এমন ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি, যাদের কাছে স্মার্টফোনের উন্নত ফিচারের চেয়ে দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভ্রমণকারী, জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প ফোন রাখতে আগ্রহী ব্যক্তি কিংবা সাধারণ কলের জন্য আলাদা ডিভাইস খুঁজছেন। এমন ব্যবহারকারীদের কাছে ফোনটি বিবেচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে অন্য ফোনে চার্জ দেওয়ার সুবিধা একে সাধারণ ফিচার ফোনের তুলনায় আলাদা করেছে। তবে ইন্টারনেটভিত্তিক অ্যাপ, উন্নত ক্যামেরা, দ্রুত নেটওয়ার্ক এবং বড় ডিসপ্লে যাদের প্রয়োজন, তাদের জন্য এটি উপযুক্ত বিকল্প নাও হতে পারে।
সব মিলিয়ে, নোকিয়া ৩০০ চার্জের মূল আকর্ষণ আধুনিক স্মার্টফোনের মতো বহুমুখী ফিচার নয়; বরং দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ, পরিবর্তনযোগ্য ব্যাটারি, রিভার্স চার্জিং ও শক্তিশালী টর্চ। ফোনটির দাম এবং বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক প্রাপ্যতার তথ্য নিশ্চিত না করে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্থানীয় বাজারের তথ্য যাচাই করা উচিত।