শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এ ঘটনায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের কয়েকটি এলাকায় আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভুটান সরকারও বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিমবাহ হ্রদ থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহে মো ছু নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যায়। এতে গাসা ছাচু এলাকার পর্যটন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি লায়া গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের সড়কের একটি অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ভুটান থেকে নেমে আসা বন্যার পানি ভারতের দিকে প্রবাহিত হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার এবং আসামের ধুবরি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে সংকোশ নদী ও এর আশপাশের নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় জল কমিশনের (সিডব্লিউসি) সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ভুটানের উজানে আকস্মিক বন্যার কারণে সংকোশ নদীর পানির উচ্চতা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রশাসনকে নদীর পানির স্তর পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের ঝুঁকিপূর্ণ নদীতীরবর্তী কিছু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ভুটানের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে নেমে আসা পানি মো ছু নদী হয়ে পরবর্তী সময়ে সংকোশ নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সংকোশ নদী ভারতের আসাম দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে মিশেছে। ফলে বন্যার পানির প্রভাব ভাটির দিকে বিস্তৃত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তবে এ বন্যার কারণে বাংলাদেশে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সরকারি সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট নদীগুলোর পানির উচ্চতা ও প্রবাহ পর্যবেক্ষণ জরুরি।
ভুটানের শিনতাফু হ্রদকে দেশটির সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ১৭টি হিমবাহ হ্রদের একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হ্রদটি মো ছু নদীর উৎসস্থলে অবস্থিত। হিমবাহ গলে হ্রদে পানির পরিমাণ বেড়ে গেলে কিংবা প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। এ ধরনের ঘটনাকে বলা হয় গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড বা জিএলওএফ।
এর আগে ২০২১ সালের আগস্টেও মো ছু নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় গাসা ছাচু পর্যটনকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। নতুন করে হিমবাহ হ্রদ উপচে বন্যার ঘটনায় ভুটানসহ ভাটির দেশ ও অঞ্চলগুলোতে নদীর পানিপ্রবাহ পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।