বাংলা ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পছন্দ অনুযায়ী বিদেশি তৃতীয় ভাষা শেখানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। এ পরিকল্পনার আওতায় জাপানিজসহ একাধিক বিদেশি ভাষা অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী বছর থেকেই দেশের স্কুলগুলোতে এ ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানে বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে এক বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো জাতিকে পরিবর্তন করতে হলে বা কোনো দেশকে পরিবর্তন করতে হলে, তার প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে হাত দিতে হবে। প্রাইমারি এডুকেশনের ভিত্তি যত মজবুত হবে, সেখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা যত শক্তিশালী হবে, একটি জাতির ভবিষ্যৎ তত শক্তিশালী হয়ে গড়ে উঠবে।’
শিক্ষা ব্যবস্থায় তৃতীয় ভাষা যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশি হিসেবে বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। এর পাশাপাশি ইংরেজি ভাষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য কয়েকটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করতে চায় সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি ভাষা শেখার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে নিজেদের কর্মক্ষেত্রে এসব ভাষা কাজে লাগাতে পারবেন। প্রস্তাবিত ভাষাগুলোর মধ্যে জাপানিজও রয়েছে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী কোন ভাষাটি শিখতে চান, তা বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী বছর থেকে স্কুলগুলোতে বিদেশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করছেন।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে খেলাধুলা ও সংস্কৃতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষা কার্যক্রমে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা শক্তিশালী করা, বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে শিক্ষার অংশ করার এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য আরও দক্ষ ও প্রস্তুত করে তোলা।