সোমবার দুপুরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় সাথী আক্তারকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয় বলে জানান ওসি। সাথী স্থানীয় ‘সাথী বিউটি পার্লার’-এর মালিক ও আওয়ামীলীগ সমর্থক। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ আলীর মেয়ে।
ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি ওই নারীর ফেসবুক লাইভের পুরো ভিডিও চারবার পর্যালোচনা করেছেন। সেখানে সরকারবিরোধী বক্তব্য বা সরকারের সমালোচনামূলক কোনো বিষয় পাননি। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের বক্তব্য ওই নারীর বাকস্বাধীনতার মধ্যে পড়ে। পুরো ভিডিও না দেখে গুজব ছড়ানোর কারণে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার বেলা ২টার দিকে ‘সাথী মেকওভার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে দুটি লাইভ ভিডিও প্রকাশ করেন সাথী আক্তার। ভিডিও দুটির দৈর্ঘ্য ছিল যথাক্রমে ৫ মিনিট ২২ সেকেন্ড ও ৮ মিনিট ৮ সেকেন্ড।
ভিডিওতে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। একপর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।”
ভিডিও দুটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।
পুলিশ জানায়, ভিডিও প্রকাশের পর মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী সাথী আক্তারের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি তাঁদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তাঁকে আটক করা হয়।
রোববার রাত ৮টার দিকে উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকা থেকে একদল লোক তাঁকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সাথী আক্তারকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় প্রসিকিউশন দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জামিনে মুক্ত হয়ে এলে তাঁর ব্যবসা পরিচালনায় কোনো সমস্যা হবে না বলে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন বলেও জানান তিনি।
ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারা আমলযোগ্য অপরাধ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে পুলিশের প্রতিরোধমূলক ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত। কোনো ব্যক্তি আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের পরিকল্পনা করছেন বলে পুলিশের সন্দেহ হলে, সেই অপরাধ প্রতিরোধে তাঁকে গ্রেপ্তার করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সাথী আক্তার জামিন পাবেন কি না, তা পুলিশের ফরওয়ার্ডিং প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিচারক সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রতিবেদন বিবেচনায় বিচারক চাইলে জামিন দিতে পারেন, আবার তা নামঞ্জুরও করতে পারেন।
ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ওসির বক্তব্য অনুযায়ী, সাথী আক্তারের লাইভ ভিডিওতে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।