কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যবহৃত টিনশেড স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার আওতাধীন মানিকদী নামাপাড়া এলাকায় প্রায় ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ রয়েছে। তাঁর কাছে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এক পক্ষের সঙ্গে নিউ গিনি প্রপার্টিজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের এবং অপর পক্ষের সঙ্গে একজন অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত ওই কর্মকর্তার পক্ষের কিছু লোক রাতের বেলায় জমিটি দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় সেখানে থাকা সালমান মুক্তাদিরের টিনশেড স্থাপনাতেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
মন্ত্রী জানান, ওই স্থাপনায় সালমান মুক্তাদির কনটেন্ট তৈরির কাজ করতেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। ভাঙচুরের একটি ভিডিওও তিনি দেখেছেন বলে সাংবাদিকদের জানান।
এ ঘটনায় সালমান মুক্তাদিরের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা করা হয়নি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে জমি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও দখল-বেদখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কিছু আলামত উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন তিনি।
তদন্তাধীন বিষয় হওয়ায় তদন্ত শেষ হওয়ার আগে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয় বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতির পর বিস্তারিত তথ্য জানানো যাবে।
এদিকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানিয়েছেন, জমিটিতে নিউ গিনি প্রপার্টিজ একটি গেট তৈরি করে অন্যদের যাতায়াতে বাধা দিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন সেখানে যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তারের কথাও জানিয়েছে।
সালমান মুক্তাদিরের একটি ফেসবুক লাইভে বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলার বিষয়েও সাংবাদিকরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান।
জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সালমান মুক্তাদির নিজেই বলেছেন, তাঁর কাছে কেউ চাঁদা দাবি করেনি। ফলে বিএনপিকে নিয়ে তাঁর করা ঢালাও অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
তবে সালমান মুক্তাদিরের বক্তব্যে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ থাকলে সেটি মামলা আকারে এলে তদন্ত করা হবে বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
এদিকে শনিবার জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে জাসদের কার্যালয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু লোকজনের জড়ো হওয়া এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। ওই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে যায় এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে আটক ব্যক্তির সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন। তাঁদের মধ্যে ২৭ জনকে বাদ দিয়ে বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ২৭ জনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আটক ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, তদন্তে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। কাউকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে অভিযান চালানো হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ডিএমপির এক অফিস আদেশে তাঁকে প্রশাসনিক কারণে সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করার কথা জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি সামনে আসায় ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, দুই শতাধিক ব্যক্তি সেখানে হামলা চালিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করেন এবং বিভিন্ন মালামাল লুটের পর স্থাপনাটি ভেঙে ফেলা হয়। এ ঘটনায় পরে মামলা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সব মিলিয়ে, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর, জাসদ কার্যালয়ে অভিযান এবং মিরপুরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এসব ঘটনায় বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ও অভিযোগ রয়েছে; তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।