অর্থ বিভাগের সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, আট লাখ পেনশনভোগী এবং ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন। তাঁদের সবার বেতন নতুন কাঠামো অনুযায়ী নির্ধারণের কাজ এখনো শেষ হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সবার বেতন নতুন কাঠামোয় কার্যকর করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন বেতন নির্ধারণ করতে গিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে অসংগতি ধরা পড়েছে। কোথাও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার তুলনায় জুনিয়র কর্মকর্তার বেতন বেশি নির্ধারিত হচ্ছে। আবার পদোন্নতির পরও কোনো কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর মোট আয় কমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া উচ্চতর গ্রেড ও বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণেও জটিলতা দেখা দিয়েছে। এসব সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত আইবাস++ সফটওয়্যারের বিভিন্ন জটিলতা।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপর ৫ অক্টোবর থেকে বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম শুরু হলেও অনেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগে এখনো এ কাজ শেষ হয়নি। বেতন নির্ধারণে দেখা দেওয়া অসংগতি সমাধানের জন্য অর্থ বিভাগে আবেদন করেও অনেকে এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। পাশাপাশি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করতে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ১ নভেম্বর থেকে নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রে তা কার্যকর করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশেষ করে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বর্ধিত বেতন ও বকেয়া পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা কর্মীদের এ জন্য আরও অপেক্ষা করতে হতে পারে।