মাত্র চার দিনের ব্যবধানে আবারও বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার বা এক লাখ কোটি ডলারের বেশি সম্পদের মালিক হওয়ার মর্যাদা হারিয়েছেন ইলন মাস্ক। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে তাঁর মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমে যায়। একই সময়ে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ারের দামেও পতন দেখা যায়। এতে মাস্কের সম্পদের পরিমাণ এক ধাক্কায় কয়েক হাজার কোটি ডলার কমে যায়। খবর ফোর্বসের।
ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, মঙ্গলবার লেনদেন চলাকালে মাস্কের সম্পদের পরিমাণ কমে এক লাখ কোটি ডলারের নিচে নেমে আসে। তাঁর সম্পদের বড় অংশ স্পেসএক্স ও টেসলায় থাকা শেয়ারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটির শেয়ারের দামের ওঠানামা সরাসরি তাঁর মোট সম্পদে প্রভাব ফেলে।
গত জুনে স্পেসএক্সের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) পর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধিতে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হন ইলন মাস্ক। তবে শেয়ারবাজারে দরপতনের কারণে কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি সেই অবস্থান হারান। পরবর্তী সময়ে তাঁর সম্পদের পরিমাণ এক লাখ কোটি ডলারের আশপাশে ওঠানামা করতে থাকে।
গত সপ্তাহে স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের দাম বাড়ায় আবারও তাঁর সম্পদের পরিমাণ এক লাখ কোটি ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু মঙ্গলবার স্পেসএক্সের শেয়ারের দরপতনে সেই অবস্থান ধরে রাখতে পারেননি তিনি।
মাস্ক স্পেসএক্স ও টেসলা – দুই প্রতিষ্ঠানেরই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। ফলে প্রতিষ্ঠান দুটির বাজারমূল্যের পরিবর্তন তাঁর সম্পদের হিসাবেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
মঙ্গলবার স্পেসএক্সের শেয়ারের পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারেও বিক্রির চাপ দেখা যায়। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে দরপতন ঘটে।
এশিয়ার বাজারে দক্ষিণ কোরিয়ার এসকে হাইনিক্স ও স্যামসাং এবং তাইওয়ানের টিএসএমসির শেয়ারের দাম কমে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এনভিডিয়া, ব্রডকম ও ইন্টেলের শেয়ারেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়।
একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তিনটি শেয়ারসূচক; ডাও জোন্স, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাকেরও পতন হয়। সূচক তিনটি যথাক্রমে ০.৩, ০.১ ও ০.১ শতাংশ কমে যায়।
প্রযুক্তি খাতের শেয়ারবাজারে দরপতনের প্রভাব পড়ে জাপানের প্রযুক্তি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান সফটব্যাংকের ওপরও। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মাসায়োশি সনের সম্পদের পরিমাণ মঙ্গলবার প্রায় ৫৫০ কোটি ডলার কমে যায়।
বাজারের ওই দিনের হিসাব অনুযায়ী, সম্পদ হারানোর দিক থেকে তাঁর অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের দামের পরিবর্তন যে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের ব্যক্তিগত সম্পদেও দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে, সাম্প্রতিক এই দরপতন তারই উদাহরণ।
শেয়ারবাজারের ওঠানামার সঙ্গে ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণও পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে তিনি আবার কবে এক লাখ কোটি ডলারের সম্পদের সীমা অতিক্রম করবেন, তা নির্ভর করছে মূলত তাঁর প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারমূল্য ও সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতির ওপর।