সমাবেশে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা খুব স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, বিএনপি সরকারের কাছে, তারেক রহমানের কাছে দেশ পরিচালনার কোনো ধরনের পরিকল্পনাই নেই। তাদের পরিকল্পনা হচ্ছে কীভাবে দেশ থেকে দুর্নীতি করবে, লুটপাট করবে, চাঁদাবাজি করবে এবং সন্ত্রাস কায়েম করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাজারো মানুষের রক্তদানের পরে আমরা এক স্বৈরাচারকে বিদায় করে এখন নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখছি। কিন্তু আপনাদের সামনে আমাদের ওয়াদা, আমাদের প্রতিশ্রুতি- পতিত স্বৈরাচার এবং এই নব্য স্বৈরাচার, দুই স্বৈরাচারকেই আমরা পরাজিত করব, ইনশা আল্লাহ।’
সীমান্ত পরিস্থিতি ও ভারতের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য
সমাবেশে দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি ও প্রতিবেশী ভারতের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে। সীমান্ত হত্যা, পার্বত্য অঞ্চলের অস্থিরতা এবং ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্তমান সরকার সক্ষম নয়।
নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, জাপান সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে করিডর তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভারতের হাতে কোনো অবৈধ করিডর তুলে দেওয়ার উদ্যোগ জনগণ মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী ডিসেম্বরে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি ন্যায্য ভিত্তিতে নতুন করে সম্পাদন করা না হলে জনগণ আবারও আন্দোলনে নামবে বলে হুঁশিয়ারি দেন এনসিপির আহ্বায়ক।
দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, দেশে চলমান নৈরাজ্য, খুন ও গুমের দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতের পরিস্থিতির দায় নিয়ে জ্বালানিমন্ত্রীরও পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।
দাবি আদায় না হলে আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন নাহিদ ইসলাম। প্রয়োজনে মিছিল নিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘেরাও করে দাবি আদায় করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এনসিপির চার দফা দাবি
সমাবেশ থেকে চার দফা দাবি তুলে ধরে এনসিপি। দাবিগুলো হলো –
১. ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ।
২. একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে গণভোটের গণরায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন।
৩. মানবাধিকার ও বাক্স্বাধীনতাবিরোধী আইন বাতিল এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী পাস না করা।
৪. জুলাই গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করে অবিলম্বে রায় কার্যকর করা।
সমাবেশে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।