টাইফুন ‘দুজুয়ান’ জাপানের দিকে ধেয়ে আসায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ঝড়ের কারণে সোমবার অন্তত ২৭৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং টোকিওসহ আশপাশের এলাকায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ)।
আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রবল বাতাস ও ভারী বর্ষণ নিয়ে টাইফুনটি রাজধানী টোকিওর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রভাবে বহু এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা রোববার এক সতর্ক বার্তায় জানায়, টাইফুন স্থলভাগে আঘাত হানার আগেই বৃষ্টি ও বাতাসের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। সংস্থাটির মতে, মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট বৃষ্টিপাত সেপ্টেম্বর মাসের স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অতিক্রম করতে পারে, যা রেকর্ড মাত্রার ভারী বর্ষণের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
জেএমএর তথ্য অনুযায়ী, টাইফুনটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১৪৪ কিলোমিটার ছিল। ওই সময় এটি টোকিওর দক্ষিণে অবস্থিত দূরবর্তী দ্বীপ হাচিজোজিমা থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল।
ঝড়ের প্রভাবে সোমবার টোকিও সংলগ্ন চিবা অঞ্চলের চার হাজারের বেশি পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া বিভাগ বাসিন্দাদের ভারী বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসের সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানিয়েছে।
বিমান চলাচলেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। জাপান এয়ারলাইনস (জেএএল) ১২০টি অভ্যন্তরীণ এবং ১৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছে। অন্যদিকে অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ (এএনএ) ১৪০টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।
রেল যোগাযোগেও বিঘ্ন ঘটেছে। টোকিও ও পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
টাইফুনের প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন আয়োজনেও। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভিডিও গেম বাণিজ্য মেলা ‘টোকিও গেম শো’-এর শেষ দিনের কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের আগেই বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে চিবা অঞ্চলে অনুষ্ঠিতব্য একটি বড় উন্মুক্ত সংগীত উৎসব এবং একটি বেসবল ম্যাচও বাতিল করা হয়েছে।
আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ঝড়ের গতিপথ ও শক্তি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে উপকূলীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সূত্র : বাসস