মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির উপপ্রধান আমির হায়াত মোকাদ্দাম ইরানি সংবাদমাধ্যম আইএসএনএকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান। তাঁর ভাষ্য, তেহরান চারটি দেশের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ ও কৌশলগত সম্পর্ক বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
হায়াত মোকাদ্দাম জানান, ভারতীয় জাহাজ চলাচলে ছাড় দেওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ভারত থেকে ইরানের জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী আমদানির পথ সহজ রাখা। অন্যদিকে চীনা জাহাজকে ছাড় দেওয়ার পেছনে বেইজিংয়ের রাজনৈতিক সমর্থন ধরে রাখার বিষয়টি কাজ করেছে।
তিনি আরও জানান, ভারত ও চীনের জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার ক্ষেত্রে ইরানকে ট্রানজিট ফি দিতে হয়। তবে কাতারের জাহাজ চলাচলের জন্য কোনো মাশুল নেওয়া হচ্ছে না। ইরাকি জাহাজের ক্ষেত্রে কোনো ট্রানজিট ফি নেওয়া হয় কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।
কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী?
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালী বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) উল্লেখযোগ্য অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানের মতো জ্বালানিসমৃদ্ধ দেশগুলোর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য এ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাবে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। ইরান জলপথটিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে।
সূত্র: আল জাজিরা।