যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনায় অচলাবস্থার মধ্যে নিউইয়র্কে অবস্থানরত ইরানি প্রতিনিধিদলকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সোমবার রুবিও ইরানি প্রতিনিধিদলকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ইরানি প্রতিনিধিদল নিউইয়র্কে অবস্থান করছিল। কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের অবস্থানের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গিয়েছিল।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানি প্রতিনিধিদল নিউইয়র্কে গিয়েছিল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায়ও অংশ নেন। কাতারের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এসব আলোচনায় মূলত আঞ্চলিক সংঘাত, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতার পথ খোঁজা হচ্ছিল।
তবে কয়েক দফা আলোচনার পরও দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবধান থেকে যায়। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা হয়নি। কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা একটি সমঝোতার প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চালালেও আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতি আসেনি।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, রুবিওর নির্দেশ পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আরাঘচি ও ইরানি প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা নিউইয়র্ক ছাড়েন। তারা কাতারের রাজধানী দোহার উদ্দেশে রওনা হন বলে মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়েছে।
তবে ইরানি পক্ষের বক্তব্য কিছুটা ভিন্ন। তাদের দাবি, প্রতিনিধিদলের নিউইয়র্ক ছাড়ার পরিকল্পনা আগেই নির্ধারিত ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের বহিষ্কার করা হয়নি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও জানিয়েছে, ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের ফেরার বিষয়টি আগে থেকেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে জানানো হয়েছিল।
এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একাধিক দফায় পরোক্ষ আলোচনা হয়। এসব আলোচনায় কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে। ইরান হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু এবং আলোচনায় ফেরার বিষয়ে প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
ইরানি প্রতিনিধিদল নিউইয়র্ক ছাড়লেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কাতারসহ মধ্যস্থতাকারীরা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা ধরে রেখে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।