আলোকস্বল্পতার কারণে মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলাও নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়েছে। তবে ম্যাচের পরিস্থিতি বলছে, বাকি দুই দিনে ফলাফল আসার সম্ভাবনা প্রবল। প্রথম তিন দিনে ২৭০ ওভার খেলা হওয়ার কথা থাকলেও আলোস্বল্পতার কারণে মাঠে গড়িয়েছে মাত্র ২০৯.৩ ওভার। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় ৬০ ওভার কম খেলা হয়েছে। তারপরও দুই দলের ২৬টি উইকেটের পতন ম্যাচের উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। তৃতীয় দিন শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭৯ রান। সব মিলিয়ে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ১০৬ রানে। ফলে ম্যাচে সুবিধাজনক অবস্থানে যাওয়ার বদলে নতুন করে চাপে পড়েছে বাংলাদেশ।
ম্যাচজুড়ে চোট সমস্যাও ভোগাচ্ছে বাংলাদেশকে। ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। চোট নিয়েই মাঠে নামা অধিনায়ক লিটন দাস আবার কনুইয়ের সমস্যায় পড়েছেন। উইকেটের পেছনে দাঁড়ানোর সময় তাঁকে সহায়তা করতে হয়েছে জাকের আলীকে। এর মধ্যে তৃতীয় দিনে ফিল্ডিং করার সময় মাথায় আঘাত পান মুমিনুল হক। পরে তাঁর পরিবর্তে কনকাশন সাব হিসেবে ব্যাটিংয়ে নামেন জাকের।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস ২৪৫ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ৩৩ রানের মধ্যে হারায় চার উইকেট। চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ৩৪ রান।
বিরতির পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন লিটন দাস। পরে একই স্পিনারের বলে বোল্ড হন মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া ওয়ারিক্যান দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান। ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে দিন শেষ করে বাংলাদেশ। এরপর আলোকস্বল্পতার কারণে আর খেলা চালানো সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতার অন্যতম উদাহরণ তাওহিদ হৃদয়ের আউট। প্রথম ইনিংসে ৪২ রান করা এই ব্যাটসম্যান দ্বিতীয় ইনিংসে কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন। রোস্টন চেজের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে মিড অনে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। মাত্র দুই বল খেলেই উইকেট হারান হৃদয়। এর আগে একই ওভারে সাদমান ইসলামকেও বোল্ড করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক।
মিরপুরের উইকেটে প্রথম দিন থেকেই স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। তৃতীয় দিনে সেই সুবিধা আরও বেড়েছে। তবে উইকেটের আচরণ খুব বেশি অস্বাভাবিক ছিল না। ব্যাটসম্যানদের জন্য রান করার সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশের বেশির ভাগ ব্যাটারই নিজেদের উইকেট উপহার দিয়েছেন।
এর আগে দ্বিতীয় দিনের ৪ উইকেটে ১৩৪ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাকি ছয় উইকেটে তারা যোগ করে ১১১ রান। লাঞ্চের আগে দুই উইকেট হারালেও বিরতির পর দ্রুত গুটিয়ে যায় সফরকারীদের ইনিংস। মাত্র ৩২ রান যোগ করতেই শেষ তিন উইকেট হারায় তারা। ফলে প্রথম ইনিংসে ২৪৫ রানে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
সব মিলিয়ে মিরপুর টেস্ট এখন দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য লিড বাড়িয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চাপে ফেলা। অন্যদিকে অল্প রানের লক্ষ্য পেলেও ম্যাচ জয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে সফরকারীদের। বাকি দুই দিনে বৃষ্টি কিংবা আবহাওয়ার বড় কোনো বাধা না এলে এই টেস্টে ফলাফল আসার সম্ভাবনাই বেশি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের সময়ও কখনো কখনো বল নিচু হচ্ছিল, কোনো কোনোটা বেশ টার্নও নিচ্ছিল। জশুয়া বিশপকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলা মিরাজের বল ছিল অনেকটা সে রকমই। তেজনারায়ণ চন্দরপলের ফিফটির (৫৬) পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসের আর উল্লেখযোগ্য ঘটনা পঞ্চম উইকেটে জাস্টিন গ্রিভস ও রোস্টন চেজের ৫১ রানের জুটি। নাঈম হাসানের বলে গ্রিভসের এলবিডব্লুতে ভেঙে যায় সেটি এবং এরপরই বিপর্যয়।
৩২ রানে পড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ ৫ উইকেট, শেষ ৪ উইকেট মাত্র ১১ রানে। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে কৃতিত্বটা বেশি ৩৩ রানে ৪ উইকেট নেওয়া নাঈমের। শামার জোসেফ আর ওয়ারিক্যানকে তিনি ফিরিয়েছেন একই ওভারে।
জাকেরের সঙ্গে মিলে ব্যাট হাতে আগামীকাল সেই নাঈমই শুরু করবেন বাংলাদেশের দিন। তবে শেষ পর্যন্ত দিনটা বাংলাদেশের হয় কি না, তা বুঝতে আরেকটু অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।
বাংলাদেশ: ২৭২ ও ২৯ ওভারে ৭৯/৬ (জাকের ১৮*, নাঈম ১৮*, সাদমান ১৩; চেজ ৩/২৫, ওয়ারিক্যান ২/১৯)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ৮২.৫ ওভারে ২৪৫ (চন্দরপল ৫৬, ক্যাম্পবেল ৫৪, গ্রিভস ৪৬, চেজ ৪৩*; নাঈম ৪/৩৩, মিরাজ ২/৬৫ তাইজুল ২/৭৬)।