সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা, একই সড়কে একাধিক পরিবহন কোম্পানির বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং নির্ধারিত স্টপেজ না মানার কারণে যানজট ও যাত্রীভোগান্তি বাড়ছে। কোনো কোনো সড়কে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত বাস চলাচল করলেও অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত গণপরিবহন পাওয়া যায় না।
এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে যাত্রীদের চাহিদা, সড়কের ধারণক্ষমতা এবং যানবাহন চলাচলের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাস রুটগুলো পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্পের আওতায় এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি নির্ধারিত রুটে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনার ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে একই রুটে বিভিন্ন কোম্পানির বাসের যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা কমবে এবং নির্ধারিত নিয়মে বাস চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান বলেন, রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করতেই বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঢাকায় ৯৮টি সচল বাস রুট রয়েছে। এসব রুট পুনর্বিন্যাস করে ৩২টি সমন্বিত রুটে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, যাত্রীদের প্রকৃত চাহিদা, সড়কের ধারণক্ষমতা এবং যানবাহন চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণ করেই এ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাকে একটি পরিকল্পিত, নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব কাঠামোর মধ্যে পরিচালনা করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
প্রাথমিক পর্যায়ে চালু হতে যাওয়া ছয়টি প্রস্তাবিত রুট হলো-
1. গাজীপুরের শিববাড়ী চৌরাস্তা থেকে আজিমপুরের ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত, আব্দুল্লাহপুর হয়ে।
2. মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে চুলকুটিয়া পর্যন্ত, সায়েন্সল্যাব হয়ে।
3. মোহাম্মদপুরের বসিলার ঘাটারচর থেকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত, শাহবাগ ও মৎস্য ভবন হয়ে।
4. মোহাম্মদপুরের বসিলা থেকে নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড ও কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত, সায়েন্সল্যাব ও জিগাতলা হয়ে।
5. মোহাম্মদপুরের ঘাটারচর থেকে আব্দুল্লাহপুরের ধউর ব্রিজ পর্যন্ত, মিরপুর-১০ হয়ে।
6. টঙ্গী কলেজগেট থেকে আজিমপুরের ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত, আব্দুল্লাহপুর হয়ে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে আজিমপুর, মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে কেরানীগঞ্জ, ঘাটারচর থেকে ডেমরা ও কাঁচপুর এবং ঘাটারচর থেকে মিরপুর হয়ে আব্দুল্লাহপুরের ধউর পর্যন্ত বিভিন্ন রুট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এসব রুটে চাহিদা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী ৭০ থেকে ২৫০টি পর্যন্ত নন-এসি বাস পরিচালনার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি টঙ্গী কলেজগেট থেকে আজিমপুর পর্যন্ত ২২ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার রুটে ২০টি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ ছাড়া ফার্মগেট-পলাশী, মোহাম্মদপুর কেন্দ্রিক এবং উত্তরা এলাকায় তিনটি চক্রাকার বাস সার্ভিস চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিটি চক্রাকার রুটে ২০টি করে বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাস রুট রেশনালাইজেশন পরিকল্পনায় ঢাকা চাকা, রমজান আলী এন্টারপ্রাইজ, ফোর স্টার বাস লাইন ও পিএনপি সিটি সার্ভিসসহ কয়েকটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাসগুলো রাখার জন্য রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নির্দিষ্ট জায়গা বা পার্কিং সুবিধা নির্ধারণের প্রস্তাবও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, পরিকল্পনাটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীর সড়কে বাসের অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা কমবে, যাত্রী ওঠানামায় শৃঙ্খলা ফিরবে এবং গণপরিবহনের ওপর চাপ ব্যবস্থাপনা সহজ হবে। তবে এ উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে নির্ধারিত রুট, স্টপেজ, বাসের সংখ্যা ও পরিচালনব্যবস্থা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তার ওপর।
/বাসস