প্রথমার্ধে ছন্নছাড়া ফুটবল, দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা। তবু শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হার এড়াতে পারল না বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরু থেকেই স্বাগতিকদের আক্রমণের মুখে দিশেহারা ছিল বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। প্রথমার্ধেই দুই গোল হজম করা বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত আরও একবার জালে বল জড়ায় বাংলাদেশ। ফলে ৩-০ গোলের ব্যবধানে হেরে ফিফা আসিয়ান কাপের মিশন শুরু করেছে বাংলাদেশ ফুটবল দল।
গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আজ মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখাতে থাকে মালয়েশিয়া। বিপরীতে বাংলাদেশকে বেশির ভাগ সময়ই ব্যস্ত থাকতে হয় নিজেদের রক্ষণ সামলাতে। আক্রমণভাগে সমন্বয়ের অভাবে নিজেদের মতো করে খেলাই কঠিন হয়ে পড়ে বাংলাদেশের জন্য।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই প্রথম বড় সুযোগ তৈরি করে মালয়েশিয়া। কর্নার থেকে আসা বল গোলমুখে পেয়ে শট নেন মালয়েশিয়ার এক আক্রমণভাগের খেলোয়াড়। তবে বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বলটি কোনোমতে বাইরে পাঠিয়ে দেন। শুরুতেই বিপদ এড়ালেও এরপরও মালয়েশিয়ার আক্রমণের চাপ কমেনি।
একের পর এক আক্রমণ সাজাতে থাকে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে তখন প্রায় পুরোটা সময়ই নিজেদের অর্ধে অবস্থান করতে হচ্ছিল। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ তৈরির সুযোগও খুব একটা পাচ্ছিল না বাংলাদেশ।
এরই ধারাবাহিকতায় ম্যাচের ১৮তম মিনিটে গোল পেয়ে যায় মালয়েশিয়া। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন মালয়েশিয়ার ১০ নম্বর জার্সিধারী আরিফ আইমান। তাকে আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। তবে শেষ পর্যন্ত আরিফকে থামানো সম্ভব হয়নি। গোলরক্ষক শ্রাবণও এগিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেননি। আলতো টোকায় বল জালে পাঠিয়ে মালয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন আরিফ আইমান।
গোল হজমের পরও নিজেদের খেলায় খুব একটা পরিবর্তন আনতে পারেনি বাংলাদেশ। বরং মালয়েশিয়ার আক্রমণ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হয় দলকে। বাংলাদেশের পাসিংয়েও ছিল একাধিক ভুল, যার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছিল মালয়েশিয়া।
ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে বাংলাদেশের সেই ভুলেরই খেসারত দিতে হয়। তপু বর্মণের একটি ভুল পাস থেকে বল পেয়ে যান আরিফ আইমান। বাংলাদেশের রক্ষণভাগ তখন অনেকটাই অপ্রস্তুত। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ঠান্ডা মাথায় নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন মালয়েশিয়ার এই ফরোয়ার্ড।
প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় বাংলাদেশকে।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য কিছুটা ভিন্ন চেহারায় দেখা যায় বাংলাদেশকে। দুই গোলে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ নিজেদের আক্রমণ বাড়ানোর চেষ্টা করে। মাঝমাঠে বলের দখল ধরে রেখে মালয়েশিয়ার রক্ষণভাগে চাপ তৈরির চেষ্টা করতে থাকে তারা। তবে আক্রমণে উঠলেও শেষ মুহূর্তের পাস ও ফিনিশিংয়ে বারবার ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ।
এর মধ্যেই ম্যাচের ৫২তম মিনিটে বাংলাদেশকে আরও একবার হতাশ করে মালয়েশিয়া। মাঠের ডানপ্রান্ত থেকে আসা বল বাম পায়ে নিয়ন্ত্রণে নেন ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া মালয়েশিয়ান ফরোয়ার্ড বের্গসন গুস্তাভো। এরপর ডান পায়ে নেওয়া শটটি খুব বেশি গতির না হলেও বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ সেটি ঠেকাতে পারেননি। ফলে ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় মালয়েশিয়া।
তিন গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও হাল ছাড়েনি বাংলাদেশ। বরং ম্যাচের শেষদিকে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে দলটি। ৭৬তম মিনিটে ব্যবধান কমানোর সবচেয়ে বড় সুযোগটি পেয়েছিলেন হামজা চৌধুরী।
সতীর্থের বাড়ানো বল নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন হামজা। সামনে তখন ছিলেন শুধু মালয়েশিয়ার গোলরক্ষক। গোলের ভালো সুযোগ পেয়েও হামজার নেওয়া প্রথম শট আটকে দেন মালয়েশিয়ার গোলরক্ষক। ফিরতি বল পেয়ে দ্বিতীয়বার শট নিলেও সেটিও রুখে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য আসে শুধু কর্নার।
এরপর ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ৩-০ গোলের ব্যবধানে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।
প্রথমার্ধে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং মাঝমাঠে সমন্বয়ের অভাব মালয়েশিয়াকে একের পর এক সুযোগ তৈরি করে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে কিছুটা গতি ফিরলেও গোল করার মতো সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। বিশেষ করে হামজা চৌধুরীর সুযোগটি কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের শেষদিকে হয়তো কিছুটা উত্তেজনা ফিরতে পারত।
তবে শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ৩-০ গোলের হার দিয়েই ফিফা আসিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বের যাত্রা শুরু হলো বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচ থেকেই বড় ব্যবধানে হারায় পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতে হলে বাংলাদেশের সামনে এখন নিজেদের রক্ষণ, পাসিং এবং ফিনিশিং তিন বিভাগেই উন্নতির চ্যালেঞ্জ।