বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি শুধু কম্পিউটার ভাইরাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভুয়া লগইন পেজ, ফিশিং লিংক, প্রতারণামূলক ওয়েবসাইট, ক্ষতিকর সফটওয়্যার ও সন্দেহজনক পপ-আপের মাধ্যমেও ব্যবহারকারীদের তথ্য চুরি করা হতে পারে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় অ্যান্টিভাইরাসের পাশাপাশি নিরাপদ ব্রাউজিং ও সচেতনতারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
উইন্ডোজ ১১ – এ Microsoft Defender Antivirus সাধারণত ডিফল্টভাবেই সক্রিয় থাকে। এটি কম্পিউটারে থাকা ফাইল, ডাউনলোড করা সফটওয়্যার এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর কার্যকলাপ শনাক্ত ও প্রতিরোধে কাজ করে। নিয়মিত নিরাপত্তা আপডেটের মাধ্যমে নতুন হুমকি শনাক্ত করার সক্ষমতাও উন্নত করা হয়।
অন্যদিকে, Microsoft Defender SmartScreen ক্ষতিকর বা সন্দেহজনক ওয়েবসাইট, ফিশিং পেজ এবং সম্ভাব্য বিপজ্জনক ডাউনলোড সম্পর্কে সতর্ক করে। মাইক্রোসফটের তথ্য অনুযায়ী, এই ফিচারটি ব্যবহারকারীকে ঝুঁকিপূর্ণ ওয়েবসাইট বা ফাইল খোলার আগেই সতর্কবার্তা দিতে পারে।
তবে কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থাই শতভাগ সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয় না। তাই নিরাপত্তা ফিচার চালু রাখার পাশাপাশি অপরিচিত লিংকে ক্লিক করা, সন্দেহজনক ফাইল ডাউনলোড করা এবং অজানা ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
বাজারে বিভিন্ন থার্ড-পার্টি অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার অতিরিক্ত সুবিধার মাধ্যমে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে। এসব সুবিধার মধ্যে থাকতে পারে উন্নত ফিশিং ও স্ক্যাম প্রতিরোধ, ভিপিএন, পাসওয়ার্ড ম্যানেজার, পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য পর্যবেক্ষণ এবং ক্লাউড ব্যাকআপ।
তবে এসব সুবিধা সব ব্যবহারকারীর প্রয়োজন হয় না। কেউ যদি মূলত ওয়েব ব্রাউজিং, অনলাইন পড়াশোনা, ভিডিও দেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এবং সাধারণ অফিসের কাজ করেন, তাহলে উইন্ডোজের নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থাই তাঁর জন্য যথেষ্ট হতে পারে।
অন্যদিকে, একাধিক ডিভাইস ব্যবহার, পরিবারের সদস্যদের ডিভাইস সুরক্ষা কিংবা বিশেষ গোপনীয়তা-সংক্রান্ত সুবিধার প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সফটওয়্যার বিবেচনা করা যেতে পারে।
অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার কম্পিউটারের ফাইল পরীক্ষা, ব্যাকগ্রাউন্ড পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা স্ক্যানের জন্য সিস্টেমের কিছু সম্পদ ব্যবহার করে। ফলে বিশেষ করে পূর্ণাঙ্গ স্ক্যান চলার সময় প্রসেসর, মেমোরি ও স্টোরেজের ওপর চাপ বাড়তে পারে।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টমস গাইডের ২০২৬ সালের পরীক্ষায় দেখা গেছে, Malwarebytes Premium দিয়ে Cyberpunk 2077 গেম খেলার সময় পূর্ণাঙ্গ স্ক্যান চালালে ফ্রেম রেট প্রতি সেকেন্ডে ৮৭ থেকে কমে ৭৫-এ নেমে আসে। তবে এটি নির্দিষ্ট কম্পিউটার ও পরীক্ষার ফল; সব অ্যান্টিভাইরাস বা সব কম্পিউটারের ক্ষেত্রে একই প্রভাব পড়বে, এমন নয়।
এ কারণে শুধু নিরাপত্তার জন্য একাধিক রিয়েল-টাইম অ্যান্টিভাইরাস একসঙ্গে চালানোর প্রয়োজন নেই। এতে সিস্টেমের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে এবং সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্বও দেখা দিতে পারে।
যাঁদের বাড়তি ওয়েব সুরক্ষা, পরিচয়-পর্যবেক্ষণ, একাধিক ডিভাইস ব্যবস্থাপনা বা বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধা প্রয়োজন, তাঁদের জন্য পেইড অ্যান্টিভাইরাস উপকারী হতে পারে। তবে সাবস্ক্রিপশন কেনার আগে সফটওয়্যারটির সুবিধা, খরচ, সিস্টেমের ওপর প্রভাব এবং নিজের প্রকৃত প্রয়োজন বিবেচনা করা উচিত।
সাধারণ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে উইন্ডোজ আপডেট নিয়মিত ইনস্টল করা, Microsoft Defender-এর রিয়েল-টাইম প্রোটেকশন চালু রাখা, SmartScreen সক্রিয় রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে বহুধাপ যাচাইকরণ (MFA) ব্যবহার করা নিরাপত্তা বাড়াতে সাহায্য করে।
২০২৬ সালে উইন্ডোজ ১১ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার জন্য আলাদা অ্যান্টিভাইরাস কেনা বাধ্যতামূলক নয়। অধিকাংশ সাধারণ ব্যবহারকারী বিল্ট-ইন Microsoft Defender ও Windows Security-এর সুবিধাগুলো সঠিকভাবে চালু রেখে ভালো মাত্রার সুরক্ষা পেতে পারেন। তবে যাঁদের বিশেষ নিরাপত্তার প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের জন্য অতিরিক্ত সফটওয়্যার এখনও কার্যকর হতে পারে।
অর্থাৎ, শুধু অভ্যাসের কারণে পেইড অ্যান্টিভাইরাস কেনার বদলে নিজের ব্যবহার, প্রয়োজন ও ঝুঁকি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।