রোববার (১ নভেম্বর) থেকে এ আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় একজন নির্বাচিত উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ এবং বাকি ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে। ঋণ ও অনুদানের অর্থ এককালীন একসঙ্গে দেওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে আট জেলার তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হয়েছিল। জেলাগুলো হলো মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনা। এসব জেলায় প্রাথমিকভাবে পাওয়া আবেদনের সংখ্যা যথাক্রমে ১ হাজার ৩৪৩, ১ হাজার ২৬১, ২ হাজার ৪৫৬, ২ হাজার ১৯১, ১ হাজার ৫৪৫, ১ হাজার ৫৫২, ২ হাজার ৭৪৫ এবং ৫ হাজার ৩৫১টি।
এর ধারাবাহিকতায় আট জেলা বাদে দেশের অবশিষ্ট ৫৬ জেলার সব উপজেলার আগ্রহী তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। আবেদনকারীদের নির্ধারিত ফরম যথাযথভাবে পূরণ করে সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় জমা দিতে হবে। আবেদন গ্রহণ চলবে ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।
আবেদন ফরম বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল এবং তফসিলি ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যাবে।
এ কর্মসূচির আওতায় ঋণ ও অনুদান দেওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, উদ্যোক্তারা যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থায়নের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
আবেদন যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটিতে ব্যাংকারদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞরাও থাকবেন। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে যোগ্য উদ্যোক্তাদের নির্বাচন করে অর্থায়ন দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, কর্মসূচির নীতিমালা গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এসএমইএসপিডি সার্কুলার নম্বর-০৫-এর মাধ্যমে জারি করা হয়েছে। আগ্রহীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট (www.bb.org.bd) এবং এসএমই পোর্টালে (www.bb.org.bd/smespd_portal) এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত নীতিমালা দেখতে পারবেন।
তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দেওয়া, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তরুণ উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাও কামনা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।