রাজধানীর মিরপুর-১ এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভাঙচুরের শিকার মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দলের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এত বড় অপকর্ম করার সাহস কেউ করতে পারে না। তবে এ ঘটনায় কারও সম্পৃক্ততা থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা বের করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘গাছের গোড়া কেটে মাথায় পানি দেবেন আপনারা, এটা জনগণ দেখতে চায় না। সর্প হয়ে দংশন করে ওঝা হয়ে ঝাড়ার নাটক আমরা দেখতে চাই না। আমরা দেখতে চাই, অপরাধী যে-ই হোক, তাকে যেন আইনের আওতায় আনা হয়।’
স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো ও জনবল সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, সরকার একদিকে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপমান ও হয়রানির ঘটনা ঘটছে। এভাবে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার বিদ্যমান কাঠামোতে প্রয়োজনীয় জনবলের বড় ঘাটতি রয়েছে। অর্ধেক জনবল নিয়েই অনেক জায়গায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। তাই সব ক্ষেত্রে সরকারকে মানবিক ও যৌক্তিক আচরণ করতে হবে এবং এ ধরনের ‘দুর্বৃত্তপনা’ বন্ধ করতে হবে।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সুযোগ না পায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে রাজধানীতে একের পর এক ঘটনা ঘটেছে।
মোহাম্মদপুরে একটি বাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে দিনের বেলা অস্ত্র ও চাপাতি নিয়ে একদল লোক হামলা চালিয়েছে। এমন অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ঘটনায় জড়িতদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। নিরাপত্তাহীনতার কারণে ওই বাড়ির বাসিন্দারা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, একজন জুলাইযোদ্ধার স্টুডিওতে হামলা চালিয়ে সেটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পরে ঘটনাটিকে চাঁদাবাজির পরিবর্তে জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শফিকুর রহমান প্রশ্ন করেন, ‘জমিজমার সমস্যা নিয়ে রাত দুইটা-একটার সময় হানা দেওয়ার বিধান সংবিধানের কোথায় আছে?’
কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার যথাযথ পন্থা আছে। কিন্তু কোনো ব্যক্তির সম্পদে হামলা বা জবরদখলের চেষ্টা করার সুযোগ কারও নেই।
এসব ঘটনায় বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের জড়ানোর চেষ্টা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে নিজের দলের কেউ জড়িত থাকলেও তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই ধরনের অপকর্মের সঙ্গে আমার দলের লোক তো দূরের কথা, আমি নিজেও যদি জড়িত থাকি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন আমাকে ক্ষমা না করে। আমাকেও যেন আইনের আওতায় নেয়।’
রাড্ডা কেন্দ্রের হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের অপকর্ম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
পরিদর্শন শেষে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের জন্য প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ টাকা সহায়তার ঘোষণা দেন জামায়াত আমির। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা দিয়ে শুরু, এটা শেষ নয়। প্রয়োজনে এই এলাকার মানুষের চিকিৎসার জন্য আরও যদি কিছু করতে হয়, তাও করব, ইনশাআল্লাহ।’
গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিরপুর-১ এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রটিতে প্রবেশ করে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করেন। পরে তারা কেন্দ্রের মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, টিকা, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মালপত্র নিয়ে যায়।
এরপর ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কেন্দ্রটির একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।