রাজধানীর মালিবাগ, মহাখালী, আগারগাঁও ও যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার এসব এলাকায় পৃথক সময়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর মালিবাগের ফরচুন শপিং মলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যার দিকে মহাখালী এলাকায় পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। প্রায় একই সময়ে আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ বেতার ভবনসংলগ্ন সড়কেও একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
মালিবাগের ঘটনায় শাহজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, জুমার নামাজের পরপরই ফ্লাইওভারের ওপর থেকে ককটেল ছোড়া হয়েছে। কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ফ্লাইওয়ের প্রবেশমুখের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এদিকে রাত পৌনে ৮টার দিকে যাত্রাবাড়ী মোড়ের ট্রাফিক বক্সের সামনে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েক মিনিটের ব্যবধানে পরপর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ সময় যাত্রাবাড়ী এলাকায় যানবাহন ও মানুষের চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
হঠাৎ পরপর বিস্ফোরণের ঘটনায় পথচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জীবন বাঁচাতে অনেকে দিকবিদিক ছুটতে শুরু করেন এবং আশপাশের দোকান ও ভবনে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই দিন প্রথমে জগন্নাথ হল গেট এলাকায় পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। কিছুক্ষণ পর টিএসসি এলাকায় আরও একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়া একই দিন দুপুরে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পরপরই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির গেটের সামনে ওই বিস্ফোরণ ঘটে।