November 7, 2026, 8:52 am
শিরোনাম:
শিরোনাম:
দেশের মাটিতে প্রথমবার ৫ উইকেট, হাসানের ৬ শিকারে নতুন ইতিহাস পর্তুগালের জার্সিতে ২৩ বছরের অধ্যায়ের সমাপ্তি, রোনালদোর বিদায়ে এক যুগের অবসান হরমুজ প্রণালীতে ভারত-চীনসহ চার দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান ঢাকার বাজারে কমেছে কাঁচা মরিচ-পেঁয়াজের দাম, চড়া মাছের বাজার কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজের নাম পরিবর্তন, বাদ ‘জয় বাংলা’ ও জাতীয় চার নেতার নাম পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে ৯ নভেম্বর বসছে মজুরি বোর্ড অধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, পুলিশের হামলার তদন্তে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শিক্ষার্থীদের গাজীপুরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, ৩৫ কারখানায় ছুটি নিরাপত্তা শঙ্কায় পিছিয়ে গেল ২০২৭ এশিয়ান কাপ ১৩ সিটি করপোরেশনে ই-রিকশার নিবন্ধন শুরু, একজনের নামে সর্বোচ্চ পাঁচটি

মার্কিন ডলারের বিপরীতে আবারও শক্ত অবস্থানে ফিরছে টাকা; পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

অনলাইন ডেস্ক
সময় : Monday, September 21, 2026

দীর্ঘ সময়ের বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কাটিয়ে মার্কিন ডলারের বিপরীতে আবারও শক্ত অবস্থানে ফিরছে বাংলাদেশের মুদ্রা টাকা। রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের তারল্য বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ায় ডলারের বাজারে চাপ কমেছে। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে টাকার বিনিময়মূল্য তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্যেও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে এ পরিবর্তনের চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২১ সেপ্টেম্বরের স্পট রেফারেন্স রেট অনুযায়ী, ডলারের দর ছিল ১২২ টাকা ৯৯ পয়সা। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর এ দর ছিল ১২৩ টাকা ৭৯ পয়সার কাছাকাছি। ২০ সেপ্টেম্বর সরকারের জন্য নির্ধারিত ডলারের ওজনযুক্ত গড় হার ছিল ১২২ টাকা ৮০ পয়সা।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়া এবং আমদানি চাহিদার তুলনায় ডলারের প্রবাহ শক্তিশালী থাকায় বাজারে টাকার ওপর চাপ আগের তুলনায় কমেছে।

রেমিট্যান্সে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি

বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তির অন্যতম বড় কারণ প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৭ দশমিক ৭০২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৬ দশমিক ৭৬৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এ সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৯৩৩ মিলিয়ন ডলার বা ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

শুধু সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনেই দেশে ১ দশমিক ৮৭৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১ দশমিক ৮৬৯ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে মাসের প্রথম ১৯ দিনে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি এবং অনানুষ্ঠানিক অর্থ স্থানান্তর বা হুন্ডি ঠেকাতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।

দুই বছরে রিজার্ভে বড় বৃদ্ধি

রেমিট্যান্সের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর দেশের মোট বা গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়ায় ৩৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে গ্রস রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ১১ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার বা ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) BPM6 পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভও একই সময়ে ১৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে। এ হিসাবে প্রবৃদ্ধি ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মাসিক হিসাবেও রিজার্ভ বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে। আগস্ট শেষে গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৭ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার এবং BPM6 পদ্ধতিতে তা ছিল ৩২ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার।

কেন গুরুত্বপূর্ণ টাকার শক্তিশালী হওয়া

ডলারের বিপরীতে টাকা শক্তিশালী বা স্থিতিশীল হলে আমদানি করা পণ্যের মূল্য পরিশোধে স্থানীয় মুদ্রার প্রয়োজন তুলনামূলক কমতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিনিময় হারের চাপ কমার সুযোগ তৈরি হয়।

তবে আমদানি ব্যয় কমার বিষয়টি আন্তর্জাতিক বাজারের পণ্যমূল্য, পরিবহন ব্যয়, শুল্ক-কর এবং আমদানির সময়কার বিনিময় হারের ওপরও নির্ভর করে। ফলে শুধু টাকার বিনিময়মূল্য শক্তিশালী হলেই সব ধরনের পণ্যের দাম একই হারে কমবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা থাকলে আমদানিকারকদের এলসি খোলা ও বৈদেশিক মুদ্রায় দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা কিছুটা কমতে পারে।

ডলারের বাজারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা

বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে গেলে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়িয়েছে। এর ফলে বাজারে অতিরিক্ত ডলার সরবরাহের একটি অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে যুক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত পদক্ষেপের পাশাপাশি রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়া এবং আমদানি চাহিদার পরিবর্তনও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের ভারসাম্যে ভূমিকা রাখছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার বিষয়টি বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের অবস্থানেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত দুই বছরে রিজার্ভের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি এবং চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি সেই পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

সামনে কী চ্যালেঞ্জ

টাকার সাম্প্রতিক শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখতে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ানো, বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ ধরে রাখা এবং আমদানি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও পণ্যের দাম, আমদানি চাহিদা, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপরও দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা নির্ভর করবে।

ফলে রেমিট্যান্স ও রিজার্ভের বর্তমান ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রাখা এবং একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এখন বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর একটি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

Tags

আন্তর্জাতিক ফুটবল আন্তর্জাতিক সংবাদ ইউএনজিএ ৮১তম অধিবেশন ইউরোপীয় ফুটবল ইশরাক হোসেন উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ২০২৬ ককরোচ জনতা পার্টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্রিকেট সংবাদ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ জাতীয় সংবাদ জামায়াতে ইসলামী জ্ঞানেশ কুমার টেস্ট ক্রিকেট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন তারেক রহমান নাজমুল হোসেন শান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রযুক্তি সংবাদ ফুটবল খবর ফুটবল সংবাদ ফ্রান্সে বিক্ষোভ বাংলাদেশ বাংলাদেশ ক্রিকেট বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান টেস্ট বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশ রাজনীতি বাংলাদেশ সংবাদ বাংলাদেশের রাজনীতি বাংলাদেশের শিক্ষা সংবাদ বিএনপি বিএনপি সরকার বিনোদন সংবাদ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভারতের নির্বাচন কমিশন মধ্যপ্রাচ্য সংকট মাদকবিরোধী অভিযান ময়মনসিংহের খবর রাহুল গান্ধী রিয়াল মাদ্রিদ লিওনেল মেসি

পুরাতন খবর

এক ক্লিকে বিভাগের খবর