বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে আজ রাতে। ইউরোপের ফুটবলের তারকাদের মিলনমেলায় এবার জানা যাবে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে কার হাতে উঠছে সোনালি ট্রফি। পুরুষ ও নারী বিভাগের পাশাপাশি বর্ষসেরা তরুণ খেলোয়াড়, গোলরক্ষক, কোচ ও ক্লাবের নামও ঘোষণা করা হবে জমকালো এই অনুষ্ঠানে।
এবারের আয়োজনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ পুরুষ ও নারী বিভাগের ব্যালন ডি’অর। গত বছর পুরুষদের বিভাগে পুরস্কার জিতেছিলেন ফরাসি তারকা উসমান দেম্বেলে। নারী বিভাগে টানা তৃতীয়বারের মতো সেরা হয়েছিলেন স্পেনের আইতানা বনমাতি। এবার তাঁদের উত্তরসূরি কে হবেন, তা জানার অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ইংল্যান্ডের লন্ডনের বিখ্যাত লন্ডন প্যালাডিয়াম থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হবে ব্যালন ডি’অরের ৭০তম আসর। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত ২টায় মূল অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা। লন্ডনের স্থানীয় সময় রাত ৮টায় শুরু হবে এই আয়োজন। ফলে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের বিজয়ীদের নাম জানতে অপেক্ষা করতে হবে গভীর রাত পর্যন্ত।
এবারের অনুষ্ঠানটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৫৬ সালে চালু হওয়া ব্যালন ডি’অর এবার ৭০ বছরে পা রেখেছে। পুরস্কারটির ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো লন্ডনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মূল আয়োজন। এর আগে দীর্ঘদিন প্যারিসে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম ব্যালন ডি’অরজয়ী ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ফুটবলার স্ট্যানলি ম্যাথিউসের প্রতি সম্মান জানাতেই এবারের আয়োজনের জন্য লন্ডনকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করবেন ফ্রান্সের সাবেক তারকা ফুটবলার থিয়েরি অঁরি ও ব্রিটিশ ক্রীড়া উপস্থাপক কেট স্কট। ফুটবল তারকা, কোচ, সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়াঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বর্ণিল হয়ে উঠবে এবারের আসর।

এবারের ব্যালন ডি’অর ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছেন ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর তারকারা। পুরো মৌসুমে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, গোল ও অ্যাসিস্ট, দলের সাফল্যে অবদান এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলোয়াড়দের ভূমিকা—সবকিছুই বিবেচনায় আসবে পুরস্কার নির্ধারণে।
বিশেষ করে চ্যাম্পিয়নস লিগ, ঘরোয়া লিগ ও অন্যান্য প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শুধু গোলের সংখ্যাই নয়, দলের জন্য একজন খেলোয়াড় কতটা কার্যকর ছিলেন, বড় ম্যাচে তাঁর অবদান কেমন ছিল এবং ব্যক্তিগত দক্ষতার মাধ্যমে তিনি কতটা প্রভাব বিস্তার করেছেন, সেসব বিষয়ও বিবেচিত হবে।
তবে ব্যালন ডি’অর জয়ের ক্ষেত্রে কোনো খেলোয়াড়ের নাম আগেভাগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। মনোনীত খেলোয়াড়দের মধ্যে কে ভোটে এগিয়ে রয়েছেন, তার চূড়ান্ত উত্তর মিলবে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার পর। ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সেরা হওয়ার লড়াই নিয়ে কৌতূহল থাকবে সমর্থকদের মধ্যে।
নারী ফুটবলের ব্যালন ডি’অর নিয়েও রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নারী ফুটবলের জনপ্রিয়তা, প্রতিযোগিতার মান এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে নারী বিভাগের পুরস্কারটিও এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত স্বীকৃতি।
গত তিনবারের বিজয়ী আইতানা বনমাতি এবারও আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তবে নতুন মৌসুমে অন্য খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা পুরস্কারের লড়াইকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে সোনালি ট্রফি, সেটি জানতে অপেক্ষা করতে হবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য।
এবারের অনুষ্ঠানে পুরুষ ও নারী বিভাগের মূল পুরস্কারের পাশাপাশি আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের সম্মানিত করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে সেরা তরুণ খেলোয়াড়, সেরা গোলরক্ষক, সেরা কোচ, সেরা ক্লাব এবং সেরা স্ট্রাইকারের পুরস্কার। সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেওয়া হবে সক্রেটিস অ্যাওয়ার্ডও।
এসব পুরস্কারের মাধ্যমে শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, ফুটবলের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা খেলোয়াড়, কোচ ও ক্লাবগুলোকেও স্বীকৃতি দেওয়া হবে। বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়দের পুরস্কার ভবিষ্যতের তারকাদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে।
ব্যালন ডি’অর বিজয়ী নির্বাচনে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সাংবাদিকদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুরুষদের বিভাগে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০ দেশের প্রতিনিধিত্বকারী সাংবাদিকেরা ভোট দেন। নারী বিভাগের ক্ষেত্রে শীর্ষ ৫০ দেশের সাংবাদিকেরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পান।
খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, দলের হয়ে অর্জন, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অবদান এবং খেলোয়াড়সুলভ আচরণকে বিবেচনায় নিয়ে ভোট দেওয়া হয়। ফলে কেবল জনপ্রিয়তা কিংবা গোলের সংখ্যার ভিত্তিতে এই পুরস্কার নির্ধারিত হয় না; পুরো মৌসুমে একজন খেলোয়াড়ের সামগ্রিক অবদানই এখানে গুরুত্ব পায়।
সব মিলিয়ে, ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর রাত হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত আয়োজন। ৭০ বছরের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ হতে যাচ্ছে লন্ডনের মঞ্চে। পুরুষ ও নারী বিভাগের নতুন বিজয়ীদের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হবে দীর্ঘ অপেক্ষা। এখন ফুটবলপ্রেমীদের একটাই প্রশ্ন—এবার কার হাতে উঠবে বিশ্ব ফুটবলের ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের সোনালি মুকুট?