তিনি বলেন, শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় নীতিমালা দ্রুত প্রণয়ন করা হবে এবং সেগুলো কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট’ আয়োজিত শিক্ষক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ
মাহ্দী আমিন বলেন, আগের সরকারের সময়ে দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও অবসর ভাতা দীর্ঘদিন বকেয়া ছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকার সংস্থান করে এসব পাওনা পরিশোধের রূপরেখা ও কার্যক্রম শুরু করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, শিক্ষক সমাজের সার্বিক কল্যাণ ও স্বার্থকে সরকার আগামী দিনগুলোতেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।
শতাধিক শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ
শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে মাহ্দী আমিন বলেন, বিশ্ব শিক্ষক দিবসে আগে যেখানে সীমিতসংখ্যক শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হতো, এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে শতাধিক করা হয়েছে।
বিশেষ করে অতীতে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নিপীড়নের শিকার হয়েও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। এমন শিক্ষকদের সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি
শিক্ষকদের প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ করে তুলতে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালুর কথা জানান শিক্ষা উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক টিচার এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, উচ্চশিক্ষার সুযোগ এবং বিশ্বমানের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ জোরদারে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মাহ্দী আমিনের ভাষ্য, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। এ লক্ষ্যেই বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সংকটকালে শিক্ষকদের ভূমিকার কথা স্মরণ
দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও জাতীয় সংকটে শিক্ষকদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গত ১৬ বছরের রাজনৈতিক আন্দোলন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন ক্রান্তিকালে শিক্ষকরা গণতন্ত্রের পক্ষে ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, এমপিও চালু, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) গঠন, অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার মতো বিভিন্ন উদ্যোগ বিএনপির শাসনামলে নেওয়া হয়েছিল।
শিক্ষক-কর্মচারীদের অংশগ্রহণ
শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শিক্ষক ও কর্মচারী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, জাসাসের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান এবং শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদসহ অন্যরা।