বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামীকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবসটি পালিত হবে।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এটি শুধু চিকিৎসার বিষয় নয়, বরং মানুষের মর্যাদা, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক কল্যাণের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন এমন কাউকে অবহেলা বা বিচ্ছিন্ন না করে তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। পাশাপাশি তাঁর পাশে দাঁড়াতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা পাওয়ার পথ সহজ করতে হবে।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্ব অভিজ্ঞতার
এবারের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘Lived experiences heard: real voices, real change’। প্রতিপাদ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার মধ্য দিয়ে যাঁরা জীবনযাপন করছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা এবং সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করা প্রকৃত পরিবর্তনের পূর্বশর্ত।
প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সহমর্মিতাপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি। যাতে কেউ নিজের সমস্যার কথা বলতে সংকোচ বোধ না করেন এবং প্রয়োজনের সময় সহায়তা চাইতে দ্বিধায় না পড়েন।
তৃণমূল পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ
মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও বাণীতে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌঁছে দিতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা, টেলি-কাউন্সেলিং সম্প্রসারণ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সরকারি হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে।
এ ছাড়া গর্ভবতী মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্য, শিশু-কিশোরদের মানসিক সুস্থতা এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকতার সঙ্গে মানুষের কথা শোনা, সহমর্মিতার সঙ্গে পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সংকোচহীন সমাজ গড়ার প্রত্যাশা
একটি কল্যাণমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার, স্বাস্থ্য পেশাজীবী, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে কেউ সংকোচ বোধ করবেন না, সহায়তা চাইতে লজ্জা পাবেন না কিংবা নিজেকে একা ও অবহেলিত মনে করবেন না।
বাণীর শেষে দেশ ও বিশ্বের সব মানুষের সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬-এর সাফল্য কামনা করেন তিনি।
সূত্র: বাসস