সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ১৪তম হিফযুল কুরআন অ্যাওয়ার্ড ও কুরআন উৎসবে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী প্রজন্মের মানুষ ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন। তবে বর্তমান সময়ে এই সমন্বয়ের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তাই শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, অতীতে শিক্ষক, অভিভাবক ও বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং সালাম বিনিময়ের যে সংস্কৃতি ছিল, তা বর্তমানে অনেকটাই কমে গেছে। সামাজিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সম্মানবোধ ফিরিয়ে আনতে এই ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করা জরুরি।
শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু পরীক্ষার ফলাফল বা মৌখিক মূল্যায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তাদের নৈতিক চরিত্র, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ বিকাশের দিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও অভিভাবকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মাদরাসা ও সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি, কর্মমুখী শিক্ষা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আধুনিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ হতে পারে।
শিক্ষকের অবদানের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীকে যথাযথ শিক্ষা দিয়ে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে এবং সেই শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী জীবিকা নির্বাহ, পরিবার পরিচালনা ও মা-বাবার সেবা করার যোগ্যতা অর্জন করলে তা শিক্ষকের জন্য সদকায়ে জারিয়া হিসেবে গণ্য হতে পারে।
তিনি শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষিত ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন পরিচালিত বিভিন্ন শাখার মোট ১ হাজার ৭৫৯ জন হাফেজ শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট, সনদ, পাগড়ি বা স্কার্ফ এবং অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁদের বাবা-মাকেও বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
সন্তানদের হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলার পেছনে অভিভাবকদের ত্যাগ, সাধনা ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার এবং পবিত্র কুরআনের শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে হাফেজ শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের অবদান বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।