রোববার (১৮ অক্টোবর) তৃণমূল কংগ্রেসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে পূজা কমিটির পদধারীদের পরিচয় তুলে ধরে দুর্ঘটনার দায় ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। দলটির অভিযোগ, পূজা কমিটির সঙ্গে বিজেপির নেতাদের সংশ্লিষ্টতা থাকলে দুর্ঘটনার দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রেও তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পূজা কমিটির প্রকাশিত পোস্টার অনুযায়ী, দেবদীপ অধিকারী ‘চিফ প্যাট্রন’ বা প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তালিকাভুক্ত। জোড়াসাঁকোর বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা কমিটির চেয়ারম্যান এবং বিজেপির উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষও পূজাটির সঙ্গে যুক্ত বলে পোস্টারে উল্লেখ রয়েছে। এসব তথ্য সামনে এনে তৃণমূল প্রশ্ন তুলেছে, দুর্ঘটনার দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকা সমানভাবে তদন্ত করা হবে কি না।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে বলা হয়, পূজা কমিটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় সামনে আসার পর তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। দলটি আরও প্রশ্ন তুলেছে, মুখ্যমন্ত্রী নিজে মণ্ডপ উদ্বোধন করে থাকলে সেখানে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা উচিত।
তবে পূজা কমিটির পদে থাকা বা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকা নিজে থেকেই দুর্ঘটনার দায় প্রমাণ করে না। এ ঘটনায় কারও অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।
দুর্ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ছাড় দেওয়া হবে না। মণ্ডপের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রোববারের বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে সাতজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পূজা কমিটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা লোকজন রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দেবদীপ অধিকারী, বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা কিংবা তমোঘ্ন ঘোষ গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন; এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার পর রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তাঁর বিস্তারিত জানা নেই। মুখ্যমন্ত্রীর ভাতিজার বয়স বা অবস্থান সম্পর্কেও তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান। একই সঙ্গে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকার কথা উল্লেখ করে তাৎক্ষণিকভাবে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া জানাতে চাননি বলে আপনার দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন। প্রবল বৃষ্টি, সরু প্রবেশপথ এবং হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ভিড় পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
রোববার আহতদের দেখতে কলকাতার হাসপাতালে যান ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দুর্ঘটনার পর তাঁর নির্ধারিত কর্মসূচিও পরিবর্তন করা হয় বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
চোরবাগানের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এখন শুধু নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক জবাবদিহির বিতর্কও। তবে পূজা কমিটির সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত দায়; দুটি বিষয়ই তদন্তের ফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।