দর্শকদের একাংশের অভিযোগ, পাকিস্তানি ধারাবাহিক ‘শেইদাই’-এর সঙ্গে ‘প্রথম প্রেমের গল্প’-এর কাহিনি, কয়েকটি দৃশ্য এবং চরিত্রের পোশাকেরও মিল রয়েছে। ফলে নাটকটির মৌলিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে নির্মাতা বা সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া না গেলে বিষয়টিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
পাকিস্তানি ধারাবাহিক ‘শেইদাই’-এ অভিনয় করেছেন ফিরোজ খান ও সাহার হাশমি। অন্যদিকে, ‘প্রথম প্রেমের গল্প’-এ নিলয় ও হিমির পাশাপাশি অভিনয় করেছেন ফারিন খানসহ আরও কয়েকজন পরিচিত অভিনয়শিল্পী।

বাংলাদেশের
বিতর্কের আরেকটি বিষয় হলো, নাটকটির পোস্টার ও ইউটিউবে প্রকাশিত পর্বের শিল্পী-কুশলীদের তালিকায় চিত্রনাট্যকার বা মূল গল্পের লেখকের নাম উল্লেখ না থাকার অভিযোগ। দর্শকদের একাংশের প্রশ্ন, গল্পটি মৌলিক হলে এর রচয়িতা কে, আর অন্য কোনো কাজ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হলে তার যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে কি না।
ইন্টারনেটের বিস্তারের কারণে এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাটক সহজেই দেখতে পারেন দর্শকেরা। ফলে কোনো গল্প, দৃশ্য বা চরিত্রের উপস্থাপনায় মিল থাকলে তা দ্রুত দর্শকদের নজরে আসে। ‘প্রথম প্রেমের গল্প’ ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কও সেই বাস্তবতাকে সামনে এনেছে।
নিলয় আলমগীর ও জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে পরিচিত মুখ। তাঁদের নতুন কাজ নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা থাকায় ধারাবাহিকটি ঘিরে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। দর্শকদের একাংশ মনে করছেন, জনপ্রিয় শিল্পী ও নির্মাতাদের উচিত মৌলিক গল্প এবং সৃজনশীল উপস্থাপনার প্রতি আরও যত্নশীল হওয়া।
বিদেশি কোনো গল্প বা নির্মাণ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া আর অনুমতি বা যথাযথ স্বীকৃতি ছাড়া হুবহু নকল করার অভিযোগ এক বিষয় নয়। তাই দুই ধারাবাহিকের মধ্যে সুনির্দিষ্ট মিল, স্বত্বের বিষয় এবং নির্মাতাদের বক্তব্য যাচাই করেই এ বিতর্কের চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
এদিকে, ‘প্রথম প্রেমের গল্প’ নিয়ে দর্শকদের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে নির্মাতা তানভীর তন্ময় ও সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিতর্কটির পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।