সামাজিক ব্যবসা, তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে আরও টেকসই ও ইতিবাচক পৃথিবী গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সোশ্যাল বিজনেস, ইয়ুথ অ্যান্ড টেকনোলজি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক সাইড ইভেন্টে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।
গ্রামীণ ব্যাংকের ৫০ বছর পূর্তি এবং প্রতিষ্ঠানটির নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জনের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই বিশেষ আন্তর্জাতিক ফোরামের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ড. ইউনূসের পাশে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান।
বক্তব্যে ড. ইউনূস সামাজিক ব্যবসার ধারণা এবং বিশ্বব্যাপী এর সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ব্যবসার উদ্দেশ্য শুধু ব্যক্তিগত স্বার্থ বা মুনাফা অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। ব্যবসাকে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সমাজের জটিল সমস্যার কার্যকর সমাধানের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করা সম্ভব।
তিনি এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন, যেখানে ব্যবসায়িক উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ড. ইউনূসের বক্তব্যে ক্ষুদ্রঋণ, সামাজিক ব্যবসা এবং তরুণ নেতৃত্বের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। তাঁর মতে, মানুষের ভেতরে থাকা সক্ষমতা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা গেলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন পথ তৈরি হতে পারে।
বিশ্বের তরুণ জনগোষ্ঠীর উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতাকে বড় সম্পদ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান ড. ইউনূস। তাঁর বক্তব্যে তরুণদের শুধু কর্মসংস্থানের সন্ধানকারী হিসেবে নয়, বরং নতুন উদ্যোগ ও সমাধান তৈরির সক্ষম উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের চিন্তা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতাকে সামাজিক সমস্যার সমাধানে কাজে লাগানো গেলে তা দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
অনুষ্ঠানে প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সামাজিক ব্যবসার ধারণার সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়। প্রযুক্তিকে শুধু বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের জন্য নয়, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় ব্যবহার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ড. ইউনূস মানুষের অন্তর্নিহিত সক্ষমতায় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। বিশেষ করে ক্ষুদ্রঋণ, সামাজিক ব্যবসা ও তরুণ নেতৃত্বের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নিজস্ব উদ্যোগ ও সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ তৈরির ওপর তিনি জোর দেন।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরের এই আয়োজনে সামাজিক ব্যবসা, তরুণ প্রজন্ম এবং প্রযুক্তির সমন্বয়ে ভবিষ্যৎ সমাজ ও অর্থনীতিকে কীভাবে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়।
গ্রামীণ ব্যাংকের দীর্ঘ পথচলা এবং এর সঙ্গে যুক্ত সামাজিক ব্যবসার ধারণাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।