তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েনের মধ্যে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক নির্ধারণ করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। একই দিনে নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে নিজের শিবিরের প্রার্থীকে সরিয়ে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুক্রবার কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে নির্বাচনে অংশ নেবে। এই শিবিরকে ‘ফুটবল প্লেয়ার’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর নাম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং তাদের প্রতীক ‘খাম’।
এর আগে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দলের নাম ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ঐতিহ্যবাহী ‘ঘাসের ওপর জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহারের অধিকার নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশন উভয় পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে কমিশন অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তে পুরনো নাম ও প্রতীকের ব্যবহার স্থগিত রাখে।
এর মধ্যেই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে শুক্রবার তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, নন্দীগ্রামে তাঁর শিবির আর নতুন প্রার্থী দেবে না এবং কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বৃহত্তর বিরোধী ঐক্য ও ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ভোট গণনা হবে ৯ অক্টোবর। নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান। রেজিনগরে কংগ্রেসের প্রার্থী মহম্মদ আব্দুল্লাহি কাফি। দুই কেন্দ্রেই বামফ্রন্টও প্রার্থী দিয়েছে।
তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে বিরোধের মধ্যেই নন্দীগ্রামে মমতার শিবিরের প্রার্থী প্রত্যাহার এবং কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত আসন্ন উপনির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।