শনিবার (২৪ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাদরাসা ভাঙচুরের সমালোচনা করে তাশরীফ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ছাত্রীকে চুমু দেননি, বরং চুমু দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। শিক্ষকের ভালোবাসা ও শিক্ষার্থীর ভালো ফলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ফল ভালো হলে চুমু দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল এবং চকলেটও দেওয়া হয়েছিল।
নিজের প্রসঙ্গ টেনে তাশরীফ বলেন, ‘এখন আমি যদি এই কথা বলি যে আমাদের অনেক বাচ্চাদেরকে আমি চুমা দিছি, তাইলে আমারে মারার সাহস আছে?’
তিনি আরও বলেন, কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে অভিযোগের তুলনায় অতিরিক্ত শাস্তি দেওয়া ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ‘যতটুকু অপরাধ, শাস্তি ততটুকু হতে পারে।’
সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় দলীয় প্রধানদের ওপর বর্তায় কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তাশরীফ। এ সময় তিনি বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। পাশাপাশি শাহজালাল রুমির বিরুদ্ধে তাঁর দুটি ফেসবুক আইডি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ করেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রসঙ্গত, গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার করিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীর সঙ্গে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মাদরাসাটির ভাইস প্রিন্সিপাল মুসলেউদ্দিনকে চড় মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিশুটিকে ঘিরে এ ঘটনা এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাশরীফের বক্তব্যও সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। একই সঙ্গে শিশুর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।