November 7, 2026, 9:04 pm
শিরোনাম:
শিরোনাম:
সাত ব্যান্ডের গানে মাতল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, বোলারদের দাপটে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ জয়ের আরও কাছে ভারত হৃদয়ের ২৪২ রানের মহাকাব্যে সিলেটে বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য লিড দেশের মাটিতে প্রথমবার ৫ উইকেট, হাসানের ৬ শিকারে নতুন ইতিহাস পর্তুগালের জার্সিতে ২৩ বছরের অধ্যায়ের সমাপ্তি, রোনালদোর বিদায়ে এক যুগের অবসান হরমুজ প্রণালীতে ভারত-চীনসহ চার দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান ঢাকার বাজারে কমেছে কাঁচা মরিচ-পেঁয়াজের দাম, চড়া মাছের বাজার কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজের নাম পরিবর্তন, বাদ ‘জয় বাংলা’ ও জাতীয় চার নেতার নাম পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে ৯ নভেম্বর বসছে মজুরি বোর্ড অধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, পুলিশের হামলার তদন্তে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শিক্ষার্থীদের

বোলারদের দাপটে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ জয়ের আরও কাছে ভারত

সোহানূর রহমান
সময় : Saturday, November 7, 2026

Table of Contents

বোলারদের দাপটে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ জয়ের আরও কাছে ভারত

বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আরেকটি জয় তুলে নিল ভারত। তবে স্বাগতিকদের বিপক্ষে এই জয় পেতে ব্যাট হাতে বেশ কঠিন পরীক্ষাই দিতে হয়েছে শুবমান গিলের দলকে। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির সহায়তায় ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ৪ রানের জয় পেয়েছে সফরকারীরা। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। সিরিজের বাকি তিন ম্যাচের মধ্যে আর একটিতে জিতলেই শিরোপা নিশ্চিত হবে তাদের।

শনিবার (৭ নভেম্বর) ওয়েলিংটনের এইচএনআরওয়াই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় অধিনায়ক শুবমান গিল। বৃষ্টির কারণে শুরুতে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে ৪৭ ওভার নির্ধারণ করা হয়। ভারতীয় পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শুরু থেকেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ৪১ ওভারে মাত্র ১৩৪ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস।

জবাবে ১৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি ভারতের। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে একপর্যায়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কায় পড়ে সফরকারীরা। তবে লোকেশ রাহুলের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে লড়াই চালিয়ে যায় দলটি। ২৬ ওভারে ৭ উইকেটে ১১৩ রান তোলার পর আবারও বৃষ্টি শুরু হলে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। এরপর আর ম্যাচ শুরু করা সম্ভব হয়নি। ডিএলএস পদ্ধতিতে ওই সময় ভারতের পার স্কোর ছিল ১০৯ রান। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় লক্ষ্যের চেয়ে ৪ রান বেশি থাকায় জয় নিশ্চিত হয় ভারতের।এটি চলতি সিরিজে ভারতের টানা দ্বিতীয় জয়। এর আগে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রথম ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়েছিল সফরকারীরা। ফলে সিরিজের নিয়ন্ত্রণ এখন অনেকটাই ভারতের হাতে।বোলারদের দাপটে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ জয়ের আরও কাছে ভারত

শুরুতেই ভারতীয় বোলারদের আঘাত

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই ভারতীয় বোলারদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে থাকে নিউজিল্যান্ড। নতুন বলে দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে স্বাগতিকদের বড় ধাক্কা দেন আকিব নবি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম উইকেটের দেখা পাওয়ার পাশাপাশি তিনি তুলে নেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তাঁর বোলিংয়ে চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডার।

এরপর আক্রমণে এসে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ভারতের হাতে তুলে নেন গুরনুর ব্রার। ইনিংসের ২০তম ওভারে পরপর দুই বলে টম ল্যাথাম ও গ্লেন ফিলিপসকে ফিরিয়ে দেন তিনি। ল্যাথাম ও ফিলিপসকে হারিয়ে ৫৩ রানে ৫ উইকেটে পরিণত হয় নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ। ব্রারের বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারছিলেন না স্বাগতিক ব্যাটাররা।

একপ্রান্তে উইকেটের পতন চললেও দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন ড্যারিল মিচেল। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে তুলে নেন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৫ রান। ১০৪ বলের ইনিংসে তাঁর ব্যাটেই মূলত লড়াই করার মতো পুঁজি পায় নিউজিল্যান্ড। অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারও করেন ৩১ রান। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনের ৫৯ রানের জুটি নিউজিল্যান্ডকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছিল।

তবে সেই জুটি ভাঙার পর আবারও ধস নামে স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ে। মিচেলকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন অক্ষর প্যাটেল। এরপর স্যান্টনারসহ আরও এক উইকেট তুলে নেন ব্রার। শেষদিকে ভারতীয় বোলারদের সামনে আর প্রতিরোধ গড়তে পারেনি নিউজিল্যান্ড। ৪১ ওভারে ১৩৪ রানেই শেষ হয় তাদের ইনিংস।ভারতের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করে ম্যাচসেরা হয়েছেন গুরনুর ব্রার। ১০ ওভারে ৩০ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট, যা ওয়ানডেতে তাঁর ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। আকিব নবি ও অক্ষর প্যাটেল দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। আনশুল কাম্বোজের শিকারও দুটি উইকেট।

লক্ষ্য তাড়ায় ভারতের ব্যাটিং বিপর্যয়

১৩৫ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও স্বস্তিতে ছিল না ভারত। বরং শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় সফরকারীরা। নিউজিল্যান্ডের পেসার জ্যাকব ডাফি প্রথম ওভারেই ফিরিয়ে দেন ভারতীয় অধিনায়ক শুবমান গিলকে। কোনো রান করার আগেই সাজঘরে ফেরেন তিনি। একই ওভারে বিরাট কোহলিকেও আউট করে ভারতকে আরও বিপদে ফেলেন ডাফি। কোহলি করেন মাত্র ৭ রান।

এরপর রোহিত শর্মা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। ২৮ বলে ২৩ রান করে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কাইল জেমিসনের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় তাঁকে। অক্ষর প্যাটেলও ব্যাট হাতে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। তাঁর সংগ্রহ মাত্র ৭ রান।

একপর্যায়ে ৪৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ভারত। তখন দলের হাল ধরেন শ্রেয়াস আইয়ার ও লোকেশ রাহুল। দুজনের ব্যাটিংয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে সফরকারীরা। পঞ্চম উইকেটে তাঁদের জুটি ভারতকে কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়।

শ্রেয়াস ৪৬ বলে ৩০ রান করে দলের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হন। তবে জেমিসনের শর্ট বল সামলাতে না পেরে তাঁকে ফিরে যেতে হয়। এরপর দ্রুত উইকেট হারিয়ে আবারও বিপাকে পড়ে ভারত। নিতান্ত প্রয়োজনীয় রান তোলার পাশাপাশি উইকেট ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে তাদের জন্য।

নামান ধীর ১২ রান করে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। কিন্তু ডাফির বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এরপর জেমিসন আনশুল কাম্বোজকে ফিরিয়ে ভারতের সপ্তম উইকেট তুলে নেন। দুজনই ৩টি করে উইকেট নিয়ে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপকে বড় পরীক্ষায় ফেলেন।

বৃষ্টিতে শেষ হয় লড়াই, জয় ভারতের

ভারতের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যেও একপ্রান্ত আগলে রাখেন লোকেশ রাহুল। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৩৮ বলে অপরাজিত ২৬ রান করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে অপরাজিত ছিলেন আকিব নবি, যিনি ১ রান করেছিলেন।২৬ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১১৩ রান। তখন জয়ের জন্য আরও ২২ রান প্রয়োজন ছিল সফরকারীদের। হাতে ছিল মাত্র তিনটি উইকেট। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচে উত্তেজনা বাড়ছিল। ঠিক তখনই আবারও বৃষ্টি শুরু হয়। মাঠে খেলা চালিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি না থাকায় আম্পায়াররা ম্যাচ বন্ধ ঘোষণা করেন।

ডিএলএস পদ্ধতিতে ২৬ ওভার শেষে ভারতের পার স্কোর ছিল ১০৯ রান। সেখানে ভারতের সংগ্রহ ছিল ১১৩। অর্থাৎ পার স্কোরের চেয়ে ৪ রান এগিয়ে থাকায় বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে জয় নিশ্চিত হয় শুবমান গিলের দলের।

এভাবে ব্যাট হাতে প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে না পারলেও বোলারদের অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নেয় ভারত। বিশেষ করে গুরনুর ব্রারের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের জন্য এটি হতাশার হার। বোলাররা ভারতকে চাপে ফেললেও বৃষ্টির কারণে শেষ পর্যন্ত আর লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়নি স্বাগতিকরা।

সামনে সিরিজ জয়ের সুযোগ

এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। সিরিজের প্রথম ম্যাচেও বৃষ্টির প্রভাব ছিল। অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ৫ উইকেটের জয় পেয়েছিল সফরকারীরা। দুই ম্যাচেই ভারতীয় বোলাররা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।

এখন সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে দুই দল মুখোমুখি হবে ১০ নভেম্বর, হ্যামিল্টনে। সেই ম্যাচে জিতলেই এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ নিজেদের করে নেবে ভারত। অন্যদিকে সিরিজে টিকে থাকতে হলে ঘরের মাঠে জয়ের বিকল্প নেই নিউজিল্যান্ডের সামনে।পরপর দুই ম্যাচে হারের পর ঘুরে দাঁড়ানোই এখন কিউইদের প্রধান লক্ষ্য। আর ভারত চাইবে বোলারদের এই ছন্দ ধরে রেখে তৃতীয় ম্যাচেই সিরিজ নিশ্চিত করতে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

Tags

আন্তর্জাতিক ফুটবল আন্তর্জাতিক সংবাদ ইউএনজিএ ৮১তম অধিবেশন ইউরোপীয় ফুটবল ইশরাক হোসেন উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ২০২৬ ককরোচ জনতা পার্টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্রিকেট সংবাদ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ জাতীয় সংবাদ জামায়াতে ইসলামী জ্ঞানেশ কুমার টেস্ট ক্রিকেট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন তারেক রহমান নাজমুল হোসেন শান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রযুক্তি সংবাদ ফুটবল খবর ফুটবল সংবাদ ফ্রান্সে বিক্ষোভ বাংলাদেশ বাংলাদেশ ক্রিকেট বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান টেস্ট বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশ রাজনীতি বাংলাদেশ সংবাদ বাংলাদেশের রাজনীতি বাংলাদেশের শিক্ষা সংবাদ বিএনপি বিএনপি সরকার বিনোদন সংবাদ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভারতের নির্বাচন কমিশন মধ্যপ্রাচ্য সংকট মাদকবিরোধী অভিযান ময়মনসিংহের খবর রাহুল গান্ধী রিয়াল মাদ্রিদ লিওনেল মেসি

পুরাতন খবর

এক ক্লিকে বিভাগের খবর