বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার বাংলাদেশ সময় দুপুরের দিকে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১০ দশমিক ৫১ ডলারে দাঁড়ায়। আগের লেনদেনে স্বর্ণের দাম গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। গত সপ্তাহে মূল্যবান এই ধাতুর দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমে যায়, যা গত জুনের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরপতন।
বাজার বিশ্লেষক কাইল রোডার মতে, তেলের দাম কমে আসায় স্বর্ণের বাজার কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই ফেডের মুদ্রানীতির সিদ্ধান্ত আসায় স্বর্ণের দামে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সীমিত হতে পারে। সুদের হারের প্রত্যাশা ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির ওপর নির্ভর করে স্বর্ণের দামের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারিত হবে।
গত সপ্তাহে প্রায় ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা তেলের বাজারে প্রভাব ফেলেছে। তবে ইয়েমেনের হুথিদের সৌদি আরবে হামলা অব্যাহত থাকায় তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি।
তেলের দাম কমলে জ্বালানিনির্ভর মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমতে পারে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার নির্ধারণের সিদ্ধান্তেও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের বাজারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন।
বাজারসংশ্লিষ্টদের নজর এখন আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের দিকে। এ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে দেশটির ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচক বা পিসিইর তথ্য, যা মূল্যস্ফীতি পরিমাপে ফেডের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
বাজারে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার প্রত্যাশা থাকলেও ডিসেম্বরে তা বাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে যায়। ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের আকর্ষণ কমতে পারে।
অন্যদিকে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়লে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়তে পারে। ফলে সুদের হারসংক্রান্ত প্রত্যাশা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি। দুইয়ের ওপরই স্বর্ণের বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ভর করছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি সোমবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৪ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, প্লাটিনামের দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৫৪৮ দশমিক ৩০ ডলারে নেমেছে। প্যালাডিয়ামের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৪৬ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে সাম্প্রতিক ওঠানামার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত এবং মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন।