গাড়িতে ব্যবহারের উপযোগিতা হারালেও ইভি ব্যাটারির থাকে নানা ব্যবহার। বিদ্যুৎ সঞ্চয় থেকে শুরু করে মূল্যবান ধাতু পুনরুদ্ধার। সঠিক প্রক্রিয়ায় পুরোনো ব্যাটারি হয়ে উঠতে পারে নতুন সম্পদের উৎস।
বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইলেকট্রিক ভেহিকলের (ইভি) কার্যকাল শেষ হয়ে গেলেই এর ব্যাটারির ব্যবহারযোগ্যতা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ব্যাটারির ধারণক্ষমতা কমে যেতে পারে। আবার দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সব ক্ষেত্রে পুরো ব্যাটারি অকেজো হয়ে পড়ে না। যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এসব ব্যাটারি মেরামত, অন্য কাজে পুনর্ব্যবহার কিংবা পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব।
সাধারণত একটি ইভির ব্যাটারি প্যাক অসংখ্য ব্যাটারি সেল ও মডিউল নিয়ে তৈরি। ব্যাটারির অবস্থা, অবশিষ্ট ধারণক্ষমতা এবং নিরাপত্তাঝুঁকি মূল্যায়ন করে বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্ত নেন, সেটি পরবর্তী সময়ে কীভাবে ব্যবহার করা যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রধানত তিনটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
ইভির ব্যাটারি প্যাকের কোনো নির্দিষ্ট মডিউল বা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সব সময় পুরো ব্যাটারি বদলানোর প্রয়োজন হয় না। ব্যাটারির নকশা ও ক্ষতির ধরন অনুযায়ী ত্রুটিপূর্ণ অংশ মেরামত বা পরিবর্তন করে সেটিকে আবার সচল করা সম্ভব।
এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ানরা ব্যাটারির সেল, বৈদ্যুতিক সংযোগ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম পরীক্ষা করেন। সবকিছু নিরাপদ ও কার্যকর প্রমাণিত হলে ব্যাটারিটি মূল গাড়িতে অথবা সামঞ্জস্যপূর্ণ অন্য গাড়িতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা, অতিরিক্ত তাপ, অভ্যন্তরীণ শর্ট সার্কিট কিংবা কাঠামোগত ক্ষতির কারণে ব্যাটারিতে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হলে মেরামত করা বিপজ্জনক বা অর্থনৈতিকভাবে অলাভজনক হতে পারে। তাই পরীক্ষা ছাড়া কোনো পুরোনো ব্যাটারি পুনরায় ব্যবহার করা উচিত নয়।
কোনো ব্যাটারি গাড়ি চালানোর জন্য পর্যাপ্ত শক্তি সরবরাহ করতে না পারলেও স্থির অবস্থায় বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের কাজে কার্যকর থাকতে পারে। ব্যাটারির এই দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যবহারকে বলা হয় ‘সেকেন্ড লাইফ’ বা দ্বিতীয় জীবন।
উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যাটারির অবশিষ্ট ধারণক্ষমতা প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ থাকলে, নিরাপত্তা ও কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে সেটিকে বাড়ি, বাণিজ্যিক ভবন কিংবা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সঞ্চয়ব্যবস্থায় ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এই হার কোনো সর্বজনীন মানদণ্ড নয়; ব্যাটারির রসায়ন, অবস্থা, ব্যবহার এবং প্রকল্পের চাহিদার ওপর সিদ্ধান্ত নির্ভর করে।
এ ধরনের ব্যাটারি সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ুবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জমা রাখতে পারে। প্রয়োজনের সময় সেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি ব্যাকআপ বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখতেও এগুলো কাজে আসতে পারে।
এতে নতুন ব্যাটারি তৈরির প্রয়োজন কিছু ক্ষেত্রে কমে এবং পুরোনো ব্যাটারির ব্যবহারকাল বাড়ে। তবে দ্বিতীয়বার ব্যবহারের আগে ব্যাটারির অবস্থা যাচাই, প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সংযোজন এবং নিরাপত্তা পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাটারি মেরামত বা দ্বিতীয়বার ব্যবহারের অনুপযোগী হলে সেটি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করার কথা বিবেচনা করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় ব্যাটারি থেকে পুনরুদ্ধারযোগ্য বিভিন্ন ধাতু ও অন্যান্য উপাদান আলাদা করা হয়, যা নতুন ব্যাটারি তৈরিতে কাঁচামাল হিসেবে কাজে লাগতে পারে।
প্রথমে ব্যাটারিকে নিরাপদ অবস্থায় এনে প্রয়োজন অনুযায়ী খুলে বিভিন্ন অংশ আলাদা করা হয়। এরপর উপযুক্ত প্রক্রিয়ায় অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও ইস্পাতের মতো ধাতু উদ্ধার করা সম্ভব। ব্যাটারির সেল প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হয় ‘ব্ল্যাক মাস’ নামে পরিচিত কালচে গুঁড়ার মিশ্রণ। এতে ব্যাটারির ধরন অনুযায়ী লিথিয়াম, নিকেল, কোবাল্ট, ম্যাঙ্গানিজ ও গ্রাফাইটের মতো উপাদান থাকতে পারে।