বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, লিওঁতে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ এমন একটি এলাকায় প্রায় ১৫০ জন জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা স্থানীয় একটি পুলিশ স্টেশনের কাছে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে সাঁজোয়া যান ও দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এদিকে, প্যারিসে বিক্ষোভ শুরুর পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ‘ইয়েলো ভেস্টস’ আন্দোলন। সংগঠনটি আগামী ৩১ অক্টোবর শনিবার সংসদ ভবনসহ দেশজুড়ে বিভিন্ন সিটি হলের সামনে সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। আট বছর আগে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সরকারের বিরুদ্ধে সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসে সংগঠনটি। এবারও পুলিশের নির্দেশনা না মানার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
অন্যদিকে, প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে বিক্ষোভ শুরুর আগে শ্রমিক ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর মিছিলের স্থান পরিবর্তনের নির্দেশ দেয় পুলিশ। রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকা থেকে মিছিলটি সরিয়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পোর্তে দ্য ইতালি এলাকায় নেওয়া হয়।
ফ্রান্সের আরেক শহর ওর্লেয়াঁতে কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র্যালির (আরএন) বার্ষিক সম্মেলন ঘিরেও বিক্ষোভ হয়েছে। দলটির নেত্রী মেরিন লা পেনের নেতৃত্বে আয়োজিত সম্মেলনের বিরোধিতা করে অন্তত ১১ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ও বিরোধী নেত্রী লা পেন; উভয়েরই সমালোচনা করেন।
ওই সম্মেলন থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারাভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে লা পেনের।
গত সপ্তাহে দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের সময় সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায় এবার আগেভাগেই নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে সরকার। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি হেলিকপ্টার ও সাঁজোয়া যান মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন শহরে বিধিনিষেধ আরোপ, জাদুঘরসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বন্ধ রাখা এবং নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় স্থানীয়ভাবে কারফিউ জারির ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ফ্রান্সে রাজনৈতিক বিরোধ, বিক্ষোভের কর্মসূচি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা ঘিরে পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ। নতুন কর্মসূচিগুলোকে কেন্দ্র করে সহিংসতা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।