মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্যসহ তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন অবরুদ্ধ ছিলেন। এদিকে শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিও চলছিল।
উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, বিষয়টি সরকারকে জানানো হয়েছে এবং সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি আশা করছেন। নিজের শারীরিক অবস্থা ভালো নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রয়োজন। এ জন্য প্রশাসনের সহযোগিতার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। তাঁর প্রচণ্ড মাথাব্যথা হচ্ছে বলেও জানান উপাচার্য।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, উপাচার্য পদত্যাগপত্র জমা দিলেই তাঁকে মুক্ত করা হবে। তাঁদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর তাঁকে সম্মানের সঙ্গে মুক্তি দেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের নিয়মিত খাবার দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়া অন্যান্য সুবিধা সচল রয়েছে বলেও দাবি করেন তাঁরা। উপাচার্যসহ অন্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় চুয়েট মেডিক্যাল সেন্টারের চিকিৎসকেরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন বলে জানান আন্দোলনকারীরা।
এক শিক্ষার্থী বলেন, তাঁরা চান না অবরুদ্ধ অবস্থায় কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ুন। এ কারণে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদে এবং তাঁকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এ আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে।
উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং তাঁর শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি সামনে আসায় পরিস্থিতি সমাধানে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।